| লেখক | মুহম্মদ আবদুর রসুল |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ভাষা ও অভিধান |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 408 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
বাংলা ভাষায় আরবি ও ফারসির সংখ্যা কত? -এমন প্রশ্নের নিখুঁত কোনো জবাব নেই। আরবি ও ফারসি শব্দমালা বলতে বাংলা ভাষায় মুসলমানদের মাধ্যমে আগত আরবি, ফারসি, তুর্কি, উর্দু ও হিন্দি শব্দমালা মুসলমানদের মাধ্যমে আগমন ঘটেনি। সুতরাং শব্দটি নথিভুক্ত করা বাঞ্ছনীয় শব্দমালাকে বুঝায়। বলা হয়ে থাকে বাংলা ভাষায় এ ধরনের শব্দ-সংখ্যা আট হাজারেরও অধিক। বাংলা পিডিয়ার প্রধান সম্পাদক ড. সিরাজুল ইসলাম পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর নিবন্ধে বলেছেন যে, এ সংখ্যা ১০ হাজারের মতো। এই সংখ্যা আট হাজারই হোক বা ১০ হাজারই হোক— মুসলমানদের মাধ্যমে আগত একটি বিশাল সংখ্যার শব্দসম্ভার বাংলা ভাষার সঙ্গে মিশে গিয়ে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে। এ শব্দগুলো বাংলা ভাষার স্থায়ী সম্পদে পরিণত হয়ে গেছে। আর এ শব্দগুলো বাংলাভাষী হিন্দু ও মুসলমান সবাই তাদের লেখায় প্রায় সমানভাবেই ব্যবহার করে থাকে। বাংলা ভাষার সাধারণ অভিধানগুলোয় আরবি- ফারসি শব্দমালার অন্তর্ভুক্তি মোট আরবি-ফারসি শব্দের এক-চতুর্থাংশের মতো হয়ে থাকে। এদেশ প্রায় নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশ। কাজেই বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দমালার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টিতে বর্তমান বইটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। কথা বলায় বা লেখায় শব্দচয়ন সব সময়ই শ্রোতা বা পাঠকের প্রতি শ্রদ্ধা বা দরদবোধ রেখেই করতে হয়। একজন মুসলমানের নামের আগে ‘জনাব’-এর বদলে ‘শ্রী’ লিখলে সেই ব্যক্তি খুশি হবেন না। যদিও অর্থের দিক থেকে ‘শ্রী’ কোনো খারাপ শব্দ নয়। কিন্তু প্রচলিত রেওয়াজকে শ্রদ্ধা করতে হয়। তেমনি কোনো মুসলমানের ‘লাশ’-কে ‘মরদেহ’ বলা অনুচিত। কোনো মুসলমান মারা গেলে তাঁর লাশকে গোসল করিয়ে, কাফন পরিয়ে; আতর-খুশবু মাখিয়ে, জানাজার নামাজ আদায় করে অনেক তাজিমের সঙ্গে কবরে শুইয়ে দেওয়া হয়। এখানে ‘মরদেহের সৎকার করা হয়েছে’ বলা অশোভন। মৃত মুসলমানের বেলায় তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। কিন্তু তাঁর বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা শোভন নয়। একজন মুসলমানের লাশ দাফন-কাফনের পর মিলাদ, কুলখানি, জেয়াফত ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ‘চণ্ডিপাঠ’, ‘শ্রাদ্ধ’, ‘কাঙালভোজ’ ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার অশালীনতার পরিচয় বহন করবে। খাসীর গোশত আর পাঁঠার মাংস- এ দুটোর দুরকম আমেজ। মুসলমানদের বাড়িতে ‘খেশ’, ‘মেহমান’ আসে, কিন্তু নরেন বাবুর বাড়িতে ‘কুটুম্ব’ আসে। এভাবে বাংলা ভাষায় মুসলমানদের মাধ্যমে আগত শব্দমালার শালীন ব্যবহার ও সচেতনতা স