| লেখক | মাওলানা সাঈদ আহমদ বিন গিয়াসুদ্দীন, ড. খালিদ বিন আব্দিল কারীম মুহাম্মাদ |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
আমার নামাজের সূরা গত শতাব্দীর অন্যতম বড় মনীষী, বিখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মানযূর নোমানী রহ. এর বিশেষ উল্লেখযোগ্য একটি কীর্তি হলো, তিনি এতদাঞ্চলের সাধারণ মানুষদের জন্য সরাসরি কুরআন-হাদীসের বাণী ও বার্তাকে তাদের মন-মানস, চিন্তা ও মেধার উপযোগী করে অত্যন্ত সহজ-সাবলীল ভাষায়, দৃঢ়-সংহত ও আবেদনপূর্ণ উপস্থাপনায় কুশলতা ও পারঙ্গমতার সাথে পরিবেশন করেছেন। এই ধারায় হযরতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তাঁর কুরআন মাজীদের দরসমালার সংকলন। কুরআনের বাণী ও বার্তা, কুরআনের মর্ম ও শিক্ষা একজন মুমিনের হৃদয়ঙ্গম করার জন্য এই দরসমালা সত্যি অসাধারণ একটি সংকলন। সুন্নত ও নফল নামাজে যারা কুরআন মাজীদের শেষের ছোট ছোট সূরাগুলো প্রায়ই তিলাওয়াত করে থাকেন, ফরয নামাজে ইমাম সাহেবানের সুমধুর কণ্ঠে এই সূরাগুলো বিভিন্ন সময় শ্রবণ করে থাকেন, এই কিতাবটি আশা করা যায় তাদের জন্য কুরআনের বুঝ ও উপলব্ধি অন্তরে ধারণ করার ক্ষেত্রে, কুরআনের নূর ও হেদায়েত কলবে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তা ছাড়া কিতাবটির সহজ-সাবলীল উপস্থাপন-ভঙ্গি, হৃদয়স্পর্শী আবেদনপূর্ণ বর্ণনাভঙ্গি, সাথে সাথে ইলম ও রুহানিয়াতে পরিপূর্ণ, দরদ ও ফিকিরে ভরপুর একেকটি আলোচনা যেকোনো হৃদয়বান পাঠককে কুরআনের আলোকিত রসদে সমৃদ্ধ করবে। কুরআন অনুধাবন : পদ্ধতি ও সতর্কতা ‘শয়তানের একটি বড় যন্ত্রণা হলো, কুরআন নিয়ে মানুষের তাদাব্বুর-চিন্তা ফিকির করা। কারণ, শয়তান জানে কুরআন নিয়ে চিন্তা-ফিকির করলেই হেদায়াত লাভ হয়।’ ইবনু হুবায়রা রহ. এর এই কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কুরআনই তো সর্বোত্তম নাসীহাহর গ্রন্থ। মানুষ যদি কুরআন নিয়ে ভাবে, উপদেশ গ্রহণের নিয়তে চিন্তা করে, তা তাকে আল্লাহর দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটা তো শয়তানের জন্য যন্ত্রণাকরই হওয়ার কথা। মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ. বলেন, ‘প্রতিটি মানুষ কুরআনের অর্থ ও মর্ম সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করুক এটিই কুরআনের দাবি। সুতরাং এ কথা মনে করা ঠিক নয় যে, কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহে চিন্তা-ভাবনা করা শুধু ইমাম ও মুজতাহিদ (বা বড় বড় আলিমের) কাজ। অবশ্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পর্যায়ের মতোই চিন্তা-ভাবনারও বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে।’ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক হাফি. বলেন, ‘নামাযের রুহ যেমন খুশু-খুযু, তিলাওয়াতের রুহ হলো তাদাব্বুর ও তাযাক্কুর তথা চিন্তা-ভাবনা ও উপদেশ গ্রহণ। কালামে পাকের তিলাওয়াতে আবার সেই প্রাণ ফিরে আসুক! এটা এখন বড়ই প্রয়োজন।’ তবে কুরআন অনুধাবনেরও পদ্ধতি আছে। যে কেউ যেকোনোভাবে কুরআন নিয়ে তাদাব্বুর করলে তা উপকারী নাও হতে পারে। উপদেশ গ্রহণের নিয়তে চিন্তা-ভাবনা করা আর কুরআনের অর্থ বোঝার গৌরব অর্জনের প্রচেষ্টা কখনো এক নয়। কেমন হবে আমাদের কুরআনের তাদাব্বুর, আর তা করতে গিয়ে কোন কোন বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে তা নিয়েই এই বই—কুরআন অনুধাবন। নামাজের ভুলত্রুটি মনে করুন, আপনি রুকুতে গিয়ে সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করলেন, সিজদায় গিয়ে রুকুর তাসবিহ পড়লেন, অথবা সূরা ফাতিহার বদলে তাশাহুদ পড়তে শুরু করলেন। রুকু দুইটা দিলেন, নাহয় দিলেনই না। রুকু না দিয়ে সিজদা করে ফেললেন। সিজদা দিলেন তিনটা, নাহয় একটা। দুই রাকাতের মাঝে না বসে দাঁড়িয়ে গেলেন, চার রাকাত শেষে সালাম না ফিরিয়ে পঞ্চম রাকাতে দাঁড়ালেন। এই যে একটা গণ্ডগোল লেগে গেল, এখন করণীয় কী? কোথায় সাহু সিজদা দিতে হবে, কোথায় এর প্রয়োজন নেই, সাহু সিজদা দিতেও ভুলে গেলে করণীয় কী? সাহু সিজদা দিয়েছি কি না ভুলে গেলে কী করব? এই বইটি ঠিক এ ধরনের সমস্যার সমাধান নিয়েই সাজানো হয়েছে। নামাজের নানা রকমের ভুলত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক হতে এই বইটা অত্যন্ত উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ। ঈমানের যত্ন নিন একটি সবুজ-সতেজ চারাগাছ যেমন অযত্ন-অবহেলায় ধীরে ধীরে তার অপার সম্ভাবনাগুলো সাথে নিয়ে শেষ হয়ে যায়, তেমনই যত্ন না নিলে সতেজ-সক্তিশালী ঈমানও ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। একসময় তা অত্যন্ত দুর্বল, এমনকি নিঃশেষ হয়ে কুফরের অতলে নিমজ্জিত হয়। আমাদের দেহের যেমন খাবার প্রয়োজন হয়, রুহ ও ঈমানেরও একইভাবে খাবারের প্রয়োজন হয়। রুহানী খাবারের অভাব হলে ঈমান ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। রোগ-ব্যাধি যেমন শরীরকে ধ্বংস করে, গুনাহ ও পাপাচার একইভাবে ঈমানকে আঘাত করে, অসুস্থ করে। ঈমানের মৃত্যু ঘটায়। ঈমানের যত্ন নিতে হয়। যত্ন নিলে ঈমান মুমিনের জীবনকে আলোকিত করে। সে আলো বাড়তেই থাকে। ঈমানী আলো মুমিনকে জান্নাতে পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত হয়। কীভাবে নিতে হয় ঈমানের যত্ন, আর ঈমানের ক্ষতিকর উপকরণগুলোই-বা কী তা নিয়ে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত পরিসরে লিখেছে শায়খ ইমদাদুল হক। সংক্ষিপ্ত হলেও আলোচনা এখানে পূর্ণতা পেয়েছে। শায়খের অন্যান্য বইগুলোর মতো ‘ঈমানের যত্ন নিন’ বইটিও পাঠকদের জন্য উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ। দরুদ ও সালাম একটু ভাবুন,আপনি যদি কারো ব্যাপারে জানতে পারেন,সে আপনার জন্য এবং আপনার পরিবারবর্গের জন্য খুব দুআ করে। সে নিজের জন্য আল্লাহর কাছে যতটা দুআ করে,তার চেয়ে অধিক দুআ করে আপনার কল্যাণের জন্য এবং এটাই তার পছন্দনীয় আমল! আপনি যদি কারো ব্যাপারে এমনটি জানতে পারেন,তাহলে তার প্রতি আপনি কতটাই না আনন্দিত ও খুশি হবেন! তার প্রতি আপনার দিলে কেমন মহব্বতই না পয়দা হবে! তাকে আপনি কতটাই না ভালোবেসে ফেলবেন! অতঃপর কখনো যদি তার সাথে আপনার সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটে,তবে তার সাথে আপনার আচরণ কেমন হৃদ্যতাপূর্ণ হবে! আপনি তার প্রতি কত কত ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রকাশ করবেন। এখান থেকেই বুঝে নিন,যে ব্যক্তি নবীজির জন্য বেশি বেশি দুআ করে অর্থাৎ তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম প্রেরণ করে এবং দরুদ শরীফ পাঠ করে,সে তাঁর কেমন মহব্বত লাভ করবে এবং কিয়ামত ও আখেরাতে নবীজির কতটা মায়া-মমতা,দয়া-করুণা ও নৈকট্য লাভে সে ধন্য হবে! আল্লাহ মেহেরবান আমাদের তাওফীক দান করুন- আমীন! মাওলানা মুহাম্মাদ মনযূর নুমানী রাহ. মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক দামাত বারাকাতুহুম বলেন,বেরাদারে আযীয মাওলানা সাঈদ আহমদ বিন গিয়াসুদ্দীনের প্রবন্ধটি পড়ে অধম নিজে উপকৃত হয়েছি। অন্তরে বেশি থেকে বেশি দরূদ শরীফ পাঠের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এই প্রবন্ধসহ তার সমস্ত ইলমী কাজে ভরপুর বরকত দান করুন। নবীজীর ওযীফাহ সকাল-সন্ধ্যার সকল প্রকার কাজে কীভাবে যেন দ্বীনের অনুপস্থিতি হাহাকার তৈরি করে। প্রতিদিনের রোদ, চাঁদ অথবা অমাবস্যায় মৌসুমের বদলে আরও কিছু দেখার, চেনার প্রয়াস লুকিয়ে থাকে মনন গভীরে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ যখন আমাদের অগোচরেই মিশে যাবে ঋতুর মতো করে, তখনই সম্ভব দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ সান্নিধ্য লাভ। সিয়াম পালনের ধরনে, ওজুর নহরে, সালাতে দাঁড়ানোর কায়দা-কানুনে সুন্নাহ মেনে চলার রীতি যেমন আছে, ঠিক তেমন রাত-দিনের খুটিনাটি কাজেও সুন্নাতের সংস্পর্শ প্রয়োজন। হাশরের ময়দানে সংকটাপন্ন সময়ে যিনি আমাদের জন্য শাফায়াত করবেন, আজীবন উম্মাহ-দরদ নিয়ে যিনি বেঁচেছেন; তাঁর অভ্যাসকে, প্রাত্যহিক আচরণের প্রকৃতিকে নিজের করে নেয়ার মধ্যে যে মুগ্ধতা রয়েছে, তা পুরোপুরি পেতে অবশ্যই পড়া উচিত ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিদিনের আমল ও যিকিরসমূহ’ বইটি। এখানে অত্যন্ত সাবলীল এবং বিন্যস্ত উপায়ে তুলে ধরা হয়েছে সুন্নাতের বিষয়াদি। যা অধ্যয়নের মাধ্যমে জীবনে সুন্নাহর প্রয়োগ সহজ হয়ে উঠবে। আমাদের দুনিয়াবি জীবনে নবীজীর সুন্নাহর অনুসরণেই রয়েছে পরকালের নাজাত। আসমাউল হুসনা ও দুআ এ কথা আমরা সকলেই জানি যে, আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের মাধ্যমে দুআ করলে উত্তম ফলাফল পাওয়া যাবে। সবচেয়ে ভালো হয়, প্রতিটি নামের সাথে নামের অর্থ ও আমাদের প্রয়োজনকে সামনে রেখে কুরআন, সুন্নাহ, আছার কিংবা উলামায়ে কেরামের আমল হতে গৃহীত দুআ জেনে আমল করা। এতে প্রতি নামের যিকির করে উক্ত নামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুআ করতে পারলে মনের মধ্যে অভাবনীয় এক তৃপ্তি কাজ করবে। পরিপূর্ণ ইয়াকীনের সাথে পড়তে পারলে প্রতিটি দুআই আমার দুনিয়া ও আখেরাতকে সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে। ইনশাআল্লাহ। কবীরা গুনাহ কবীরা গুনাহের অন্যতম একটি ক্ষতি হলো, আল্লাহ তাআলার দৃষ্টি থেকে আড়াল হয়ে যাওয়া। মনে করুন ঘোষণা হলো, আজকে বাদশাহর দরবারে সবাইকে বিশেষ পুরস্কার দেয়া হবে। কিন্তু আপনি সেখানে যাওয়ার পর আপনাকে প্রাসাদেই ঢুকতে দেয়া হলো না। ফলে বাদশাহর নজরে না পড়ার কারণে আপনি আর পুরস্কার পেলেন না। কবীরা গুনাহের ব্যাপারটাও ঠিক তেমনই। এর কারণে মানুষ সকল বাদশাহের বাদশাহ আল্লাহ তাআলার নজর থেকে আড়ালে চলে যায়। ফলে সে ধীরে ধীরে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ, দয়া থেকে মাহরুম হতে থাকে। তাঁর দেয়া উত্তম রিযিকও ধীরে ধীরে বন্ধ হতে থাকে। পেরেশানি-অস্থিরতা বাড়তে থাকে। একের পর এক আপদ-বিপদ আসতে থাকে। সে তখন অভিযোগ করে, আল্লাহ কি আমার এই অবস্থা দেখে না? অথচ সে ভাবে না, সে তো কবেই আল্লাহ তাআলার নজরের আড়ালে চলে গিয়েছে গুনাহের কারণে। কবীরা গুনাহের ভয়াবহতা, ক্ষতি, কবীরা গুনাহের তালিকা ও এ থেকে বেঁচে থাকার উপায় নিয়েই ইমাম যাহাবী রহ. এর অমূল্য কিতাব ‘আলকাবায়ির’। এর অসংখ্য অনির্ভরযোগ্য নুসখা এড়িয়ে সহীহ নুসখার তাহকীক-তাখরীজকৃত সংস্করণের বাংলা অনুবাদ নিয়েই আমাদের এই বই ‘কবীরা গুনাহ’। আমার রমযান প্রস্তুতি রমযানের শুরুতে আমরা অনেক আমল করতে চাই। কিন্তু শুরুটা কীভাবে করব,প্রস্তুতি কীভাবে নেব সব বুঝে উঠতে পারি না। আবার রমযানের কয়েকদিন পার হয়ে গেলে অলসতা চলে আসে। এ বিষয়ে বড় বই পড়ার ধৈর্যও সবার থাকে না। রমযান বিষয়ক সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন এই বইটি। একনজরে রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি ও রমযান শুরু হওয়ার পর করণীয় কাজগুলোর কিছু দিকনির্দেশনা। এটিকে একরকম চেকলিস্ট হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। মাঝে মাঝে রিভাইজ করলে ভুলে যাওয়া আমলগুলো মনে পড়বে। বিশেষ করে রমযানের অর্ধেক পার হওয়ার পরে আমলে উদাসীনতা আসতে শুরু করে। তখন এই বইটিতে চোখ বুলালে তা রমযান-অনুভূতিকে তাজা করবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের রমযান বসন্ত কামিয়াব হোক।