| লেখক | পপুলার সিরিজ, আলী আহমাদ মাবরুর |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 472 |
| Cover Type | পেপার ব্যাক |
নফসের ধোঁকা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শয়তান অহংকার করার কারণেই আল্লাহর রহমত ও করুণা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, অনেক ঈমানদার বান্দা বেঁচে যাবেন শুধু তাদের বিনয়ের জন্য। আমাদেরও দুটো পথের একটিকে বেছে নিতে হবে—হয় অহংকারের পথকে পছন্দ করতে হবে, নতুবা বিনয়ী হতে হবে। নিজের প্রবৃত্তি ও কামনাকে নিয়ন্ত্রণ ও সংযত করা ধর্মপরায়ণ ও ঈমান-নির্ভর জীবনযাপনের জন্যও জরুরি। প্রবৃত্তির ফাঁদে আটকা পড়ার অর্থই হলো, শয়তানের জিম্মাদারিতে চলে যাওয়া। তবে নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করা খুব সহজ কাজও নয়। এ কাজটি করতে হলে মানসিক ও আধ্যাত্মিক সতর্কতার পাশাপাশি, এসব প্রবৃত্তির বিরুদ্ধেও আমাদের যুদ্ধ করে যেতে হবে। আল্লাহ পাক বলেন, “পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশি থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” [সুরা আন-নাজিআত, আয়াত: ৪০–৪১] এ বইয়ের প্রতিটি পাতায় নফসের তাড়না তথা প্রবৃত্তিকে দমন করার জিহাদের উপাখ্যানই ফুটে উঠেছে। এখানে জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণের জিহাদের কথা আলোচনায় এসেছে। একইসঙ্গে পর্নোগ্রাফি থেকে দূরে থাকার জন্য জিহাদ এবং অশ্লীল গান ও কবিতার বিরুদ্ধে জিহাদও আলোচিত হয়েছে। কিন্তু যুবকেরা কীভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মুকাবেলা করতে পারবে, এ বইটির উপজীব্য বিষয় হিসেবে তা-ও আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, وَالَّذينَ جاهَدوا فينا لَنَهدِيَنَّهُم سُبُلَنا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ المُحسِنينَ “যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই আমার পথে তাদের পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।” [সুরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৯] এ আয়াতে যে পথের কথা বলা হয়েছে, তা-ই হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ। এ বইটিতে একেবারেই প্রায়োগিক কিছু পন্থা উপস্থাপিত হয়েছে, যা অনুসরণ করে পাঠকেরা আল্লাহর নির্দেশিত পথে অবিচল থাকতে পারবে এবং শয়তানের সাথে সার্থকভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। খোলো বোধের দুয়ার আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে ভূপৃষ্ঠে প্রভাব বিস্তার করার মতো বিবেক-বুদ্ধি, বিবেচনা, চিন্তাশক্তি ও জ্ঞান দান করেছেন। মানুষ শ্রেষ্ঠ, কারণ তাকে বিবেক দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে সে ন্যায়-অন্যায়ের বাছবিচার করবে এবং অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুম-নির্যাতন থেকে নিজেকে বিরত রাখবে। এই বিবেকের কারণে মানুষ পশুর থেকে পৃথক সত্তা। মানুষ যখন নিজের পশুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে বিবেক দ্বারা পরিচালিত হয়ে সৎভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন করে, তখনই সে “আশরাফুল মাখলুকাত” হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই তো পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিজিক দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭০)