| লেখক | মেজর জেনারেল (অব.) এম. এ. মতিন |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইতিহাস ও ঐতিহ্য |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম (১ম খণ্ড) ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ এবং প্রাসঙ্গিক কথা ইতিহাস কেবল অতীত বা কোনো স্থির বিষয় নয়, ইতিহাস হচ্ছে চলমান প্রক্রিয়া, এক কথায় ইতিহাস আমাদের ভবিষ্যতও। তাই এ কথা অনস্বীকার্য যে, একটি স্বাধীন ও মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে সগর্বে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার তাকিদে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে আমাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্বন্ধে সচেতন হতে হবে।তাদেরকে জানতে হবে ভারত বিভক্তির প্রেক্ষাপট তথা ১৭৫৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২১৪ বছরব্যাপী আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, তাদেরকে জানতে হবে একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলন হঠাৎ করে আমাদের জাতীয় জীবনে আবির্ভূত হয়নি। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের পেছনে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক পটভূমি, বাঙালি জাতির হাজার বছরের লালিত বাসনা আর স্বপ্ন থেকে জন্ম নিয়েছে একাত্তরের বাংলাদেশ, আমাদের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধ।ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে, ১৭৫৭সালের ২৩শে জুন পলাশী বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারিয়েছিলাম এবং প্রকৃত অর্থে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় তার অব্যবহিত পর থেকেই। তাদেরকে আরও জানতে হবে, আমাদের এ সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আছে আমাদের দু’টো মহৎ অর্জন, আর তা হলো- ‘৪৭ সালে পাকিস্তান এবং ‘৭১-এ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম (২য় খণ্ড) ৪৭ থেকে ৭১ এবং প্রাসঙ্গিক কথা ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোলামির শৃঙ্খলে বাঁধা পড়ি। অতঃপর সুদীর্ঘ ১৯০ বছরের সশস্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট আমরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের গোলামির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হই। ৫৫ হাজার বর্গমাইল এলাকার এ ভূখন্ড স্বাধীন পাকিস্তানের পূর্বাংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ফলে চরমভাবে অবহেলিত ও উপেক্ষিত এ অঞ্চলের ৪ কোটি ভাগ্যাহত ভুখানাঙ্গা মুসলমান সেদিন একটি স্বাধীন জাতির মর্যাদা লাভ করতে পেরেছিল।তারও চব্বিশ বছর পর আজকের পৃথক রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে সাবেক পাকিস্তান ভেঙ্গে, যার উদ্ভব ঘটতে পেরেছিল সাবেক পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে বাংলাভাষী মুসলমানদের এক স্বাতন্ত্র্য জাতীয়তাবোধ থেকে। সাবেক পাকিস্তানে বাংলাভাষীরা ছিলেন জনসংখ্যায় অর্ধেকের বেশি। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে দূরত্ব ছিল ১৭০০ কিলোমিটার। ভাষা ও ভৌগোলিক ব্যবধান সৃষ্টি করেছিল একটা স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ, ভিন্ন জাত্যাভিমান। পাকিস্তান আন্দোলনে আমাদের অবদান বেশি ছিল বিধায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাছে আমাদের দাবি এবং প্রত্যাশাও ছিল অনেক। তবে এ কথা সত্য যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রাপ্তি ঘটেনি বলেই আমরা ভাষা আন্দোলন করেছি, স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে স্বাধিকার আন্দোলন করেছি এবং পরিশেষে পাকিস্তানী শাসন ও শোষণের নাগপাশ থেকে চূড়ান্ত মুক্তির লক্ষ্যে আমরা লিপ্ত হয়েছি স্বাধীনতা সংগ্রামে।