Whatsapp: +8801567808596

  |  

Track Order

বাংলার চিরায়ত সাহিত্য প্যাকেজ

বাংলার চিরায়ত সাহিত্য প্যাকেজ

৳2985
৳1940
আদর্শ হিন্দু হোটেল রামান্সপ্রবণ ঔপন্যাসিকদের মধ্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অবিসংবাদিত। ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ (অক্টোবর, ১৯৪০) রাণাঘাটে হোটেল-পরিচালনার অতিজাগ্রত ব্যবসায়বুদ্ধির একটি সরস ও উপভোগ্য চিত্র ইহাতে আঁকা হইয়াছে। কিন্তু এই নাগরিক চাতুর
  লেখক   বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  প্রকাশনী

 এশিয়া পাবলিকেশন্স

  সংস্করণ   May 22, 2026
  catagory  সাহিত্য ও উপন্যাস
  Language   বাংলা
  Number of Pages   1930
  Cover Type   হার্ড কভার

আদর্শ হিন্দু হোটেল রামান্সপ্রবণ ঔপন্যাসিকদের মধ্যে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অবিসংবাদিত। ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ (অক্টোবর, ১৯৪০) রাণাঘাটে হোটেল-পরিচালনার অতিজাগ্রত ব্যবসায়বুদ্ধির একটি সরস ও উপভোগ্য চিত্র ইহাতে আঁকা হইয়াছে। কিন্তু এই নাগরিক চাতুর্য ও কারবারি মারপেঁচ বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে লেখক যে সরল, দেবতা-ব্রাহ্মণে ভক্তিপরায়ণ, ঘন বাঁশবন ও আগাছার জঙ্গলের আড়ালে অযত্নবিকশিত বন্য কুসুমের ন্যায় মৃদুসৌরভপূর্ণ পল্লীজীবনের সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত দিয়াছেন তাহাতেই তাঁহার নিজেরও স্বাভাবিক রুচি ও পাঠকেরও সমধিক তৃপ্তি। হাজারি ঠাকুরের চরিত্রটি চিত্তাকর্ষক, কিন্তু তাহার অদৃষ্টে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে দৈবের যে প্রসাদ-পরম্পরা পুঞ্জীভূত হইয়াছে, যেরূপ একটানা সৌভাগ্যের স্রোতে, চারিদিক হইতে প্রবাহিত অনুকূল বায়ুর প্রেরণায়, তাহার জীবনতরী সাফল্যের বন্দরে ভিড়িয়াছে তাহা বাস্তব প্রতিবেশ অপেক্ষা রূপকথার সহিতই অধিক সাদৃশ্যবিশিষ্ট। উপন্যাসটি মোটের উপর রূপকথার লক্ষণান্বিত; এবং বোধ হয় আধুনিক যুগের সমস্যাক্ষুব্ধ জীবনযাত্রার বৈপরীত্য সূচনার জন্য মিষ্ট। অপরাজিত অপরাজিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। ‘পথের পাঁচালী’র অপু-কাহিনীরই সম্প্রসারণ ‘অপরাজিত’। পরে কোন এক সময়ে অপুর সন্তান কাজলকে নিয়ে উপন্যাস রচনার ইচ্ছা তার মনে ছিল। ‘তৃণাঙ্কুর’ দিনলিপিতে তিনি লিখেছেনঃ “অপুকে জন্ম থেকে ৩৪ বৎসর বয়স পর্যন্ত আমি কলমের ডগায় সৃষ্টি করেছি। তাকে ছাড়তে সত্যিকার বেদনা অনুভব করছি-তবে সে ছিল অনেকখানিই আমার নিজের সঙ্গে জড়ানো, সেইজন্যে বেশি কষ্ট হচ্ছে বিদায় দিতে কাজলকে, লীলাকে, দুর্গাকে, রাণুদি’কে-এরা সত্য সত্যই কল্পনাসৃষ্ট প্রাণী। কোনোদিকে এদের কোনো ভিত্তি নেই এক আমার কল্পনা ছাড়া।” কিন্তু, কাজলকে নিয়ে কাহিনীসৃষ্টির পূর্বেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মারা যান। পথের পাঁচালী পথের পাঁচালী হল প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস। বাংলার গ্রামে দুই ভাইবোন অপু আর দুর্গার বেড়ে ওঠা নিয়েই বিখ্যাত এই উপন্যাস। এই উপন্যাসের ছোটোদের জন্য সংস্করণটির নাম আম আঁটির ভেঁপু। পরবর্তীকালে বিখ্যাত বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাসটি অবলম্বনে পথের পাঁচালী (চলচ্চিত্র) নির্মাণ করেন যা পৃথিবী-বিখ্যাত হয়। সমগ্র উপন্যাসটি তিনটি খণ্ড ও মোট পঁয়ত্রিশটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত। খণ্ড তিনটি যথাক্রমে বল্লালী বালাই (পরিচ্ছেদ ১-৬; ইন্দির ঠাকরুনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে), আম-আঁটির ভেঁপু (পরিচ্ছেদ ৭-২৯; অপু-দুর্গার একসাথে বেড়ে ওঠা, চঞ্চল শৈশব, দুর্গার মৃত্যু, অপুর সপরিবারে কাশীযাত্রা চিত্রিত হয়েছে) ও অক্রুর সংবাদ (পরিচ্ছেদ ৩০-৩৫; অপুদের কাশীজীবন, হরিহরের মৃত্যু, সর্বজয়ার কাজের জন্য কাশীত্যাগ এবং পরিশেষে নিশ্চিন্দিপুরে ফিরে আসার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে)। অশনি সংকেত অশনি-সংকেত উপন্যাসের পটভূমি ১৯৪৩-৪৪ সালের দুর্ভিক্ষপীড়িত বৃহত্তর বাংলা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার সেনাবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত খাদ্য সংগ্রহ করলে বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলে তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দেয়। ফলে ৫০ লাখ মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হন। খুব ছোট একটা গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উপন্যাসে লেখক দেখান, এই দুর্ভিক্ষ কিভাবে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছিল। অনুবর্তন অনুবর্তন’ হলো বিখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখা একটি জনপ্রিয় উপন্যাস, যা কলকাতা শহরের একটি স্কুলের জীবন ও শিক্ষকদের সম্পর্ক নিয়ে লেখা। এই উপন্যাসে শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক বাস্তবতাসহ মানুষের গভীর সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন স্কুলটি এক আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। নিশিপদ্ম ভুতুর মায়ের পর সে যেন বড্ড একা হয়ে পড়ে। সৎ মা-এর কাছেও সে যেন চক্ষুশূল। মাতৃস্নেহের কাঙাল ভুতু পায় না তার পিতার সান্নিধ্যও। অভাবের সংসারের জোয়াল কাঁধে টেনে প্রাণপণ লড়াই করে চলেছেন ভুতুর বাবা। তবুও সৎ মা-এর ঘরে সন্তানের অযত্ন বেশ ভালোভাবে বোঝেন তিনি। অন্যদিকে স্বামীকর্তৃক বিতাড়িতা পুষ্প বোঝেনা তার অপরাধ। সে ফিরে যায় তার বৃদ্ধা মা-এর নির্জীব কুটিরে। কিন্তু গ্রামীণ সমাজ তাকে প্রত্যাখান করে। অগত্যা জীবিকার তাগিদে পথে নামতে হয় পুষ্পকে। ভাগ্যের ফেরে তার ঠাঁই হয় শহুরে গণিকালয়ে। যুবতী পুষ্পর অন্তরে-অন্দরে সর্বদা সুপ্ত থাকে মাতৃত্ব। তার এই মাতৃত্ব আরও প্রগাঢ় হয় ভুতুকে কাছে পেয়ে! অচেনা এই পুষ্পকে ভালোবেসে তাই দূরে চলে যেতেও কার্পণ্য করেন না এক চিমটি শান্তির তৃষ্ণায় তৃষিত অনঙ্গবাবু। এভাবেই ‘নিশিপদ্ম’ হয়ে ওঠে মাতৃস্নেহ বঞ্চিত শিশু এবং সন্তানহীনা বারবণিতার এক অপরূপ উপাখ্যান আরণ্যক আরণ্যক বিভূতিভূষণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য রচনা। মূল বাংলা ছাড়াও আরণ্যক সাহিত্য আকাদেমির প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত করা হয়েছে। যেমন- ওড়িয়া, তেলুগু, গুজরাটি, মারাঠী, মালয়ালম, পাঞ্জাবী এবং হিন্দি। উপন্যাসের নায়ক হলেন সত্যচরণ- একজন তরুণ যুবক, যাকে কাজের সন্ধানে কলকাতার বহু জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়। একসময় সে জঙ্গলে একটি চাকরি পেয়ে যায়। সে তথাকথিত সভ্যজগতের সাথে বনের সেতুবন্ধন। এই চরিত্রটির উপস্থিতি ছাড়া গল্পে না বলা দুই জগতের তুলনা, যা প্রায় উপন্যাসটির প্রতি জায়গায় লুকানো ছিল তা সম্ভব হত না। সত্যচরণ এই উপন্যাসটির অন্যতম প্রধান চরিত্র। যদিও তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্র মনে করাটা অনেক বড় ভুল হবে। সে একজন বহিরাগত, যার সাথে জঙ্গল অথবা জঙ্গলের লোকদের কোন সম্পর্ক নেই। জঙ্গলের রহস্যভরা মঞ্চে প্রতিদিন মঞ্চায়িত হওয়া নাটকের সে শুধুমাত্র একজন দর্শক। সে শুধুমাত্র বাইরে থেকে এই নাট্যাভিনয় দেখতে পারে, কিন্তু এতে যোগ দেওয়ার সক্ষমতা তার নেই। মূলত ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে কোন কেন্দ্রীয় চরিত্র নেই। জঙ্গলই হলো এর কেন্দ্রীয় চরিত্র, যা প্রতিক্ষেত্রেই নিজের সৌন্দর্য এবং এর মধ্যে লোকজনের জীবনাচার দ্বারা নিজের পরিচয় দেয়। সত্যচরণ এই সবকিছুর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। তার প্রখর মেধা ও অনুভূতি দ্বারা সে যা কিছু দেখে তা বুঝতে ও উপভোগ করতে পারে, কিন্তু সে এসব কিছুর সাথে মিশে যেতে পারেনা। কারণ সে একজন আগন্তুক, জঙ্গলে তার কোন স্থান নেই। দুইবাড়ি রামতারণের অভাবের সংসারে অন্ধের যষ্টি নিধিরাম রায়চৌধুরী। নামের ভার আর বংশীয় ব্রাহ্মণ পরিচিতি যতই প্রবল মনে হোক না কেন দারিদ্র্যের পরাকাষ্ঠায় ধূসর জীবনে রঙের আঁচড় লাগেনি কখনও। মোক্তারি পাশ করে সবেমাত্র কর্মস্থলে পদচিহ্ন রাখতে শুরু করেছে নিধিরাম। অভিষেকেই হাকিমের স্নেহভাজন হিসেবে তার সংসর্গ আদালতপাড়ায় জন্ম দেয় নীরব রটনা। এর নেপথ্যে রয়েছে নিধিরামের প্রতিবেশী লালবিহারী চাটুয্যের কন্যা ষোড়শী মঞ্জু। লালবিহারী চাটুয্যেও পেশাগত জীবনে ছিলেন একজন মোক্তার। সময়ের পালাবদলে প্রতিপত্তি লাভের পাশাপাশি গ্রামীণ জীবনে তিনি হয়ে ওঠেন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। পারিবারিক, মানসিক তথা সামাজিক জীবনে ধনী-দরিদ্রের এই অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের টানাপোড়েনকে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় শব্দের তুলিতে অঙ্কণ করেছেন ‘দুই বাড়ি’ শীর্ষক উপন্যাসে। ইছামতী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘ইছামতী’ একটি কালজয়ী উপন্যাস, যা ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয় এবং এর জন্য লেখক মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন। বিভূতিভূষণের শেষ প্রকাশিত উপন্যাস এটি, যেখানে ব্রিটিশ শাসনামলের শেষদিকের গ্রামীণ সমাজ, নীলচাষ এবং নীল বিদ্রোহের পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসটি মূলত তিতুমীর ও নীল কুঠিয়ালদের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এবং গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির গভীর উপলব্ধি এতে বর্ণিত হয়েছে।

বইয়ের রেটিং: (0.00/5, 0 রেটিং)
রেটিং দিতে লগইন করুন।