| লেখক | হোসেনউদ্দীন হোসেন |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | প্রবন্ধ |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 152 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
বেশ কয়েক বছর আগে থেকে বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে এপার বাংলা ও ওপার বাংলার কয়েকজন বিদগ্ধ ব্যক্তি লেখার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বর্তমান গ্রন্থটি লিখতে শুরু করি। বিষয়টি সহজ নয়,অত্যন্ত জটিল এবং শ্রমসাধ্য। তবুও লিখেছি। পন্ডিতের দৃষ্টিতে নয়। নিজের দৃষ্টিতে। আমি উত্তরাধিকার সূত্রে ভূমিজ সন্তান। আমার পূর্বপুরুষরা ভূমি সংলগ্ন ছিলেন। ভূ’স্বামী ছিলেন না। গতর ঘামানো ফসল ফলানোর অভিজ্ঞতার সঙ্গে আমি পরিচিত। যে গ্রামে জন্ম— সেই গ্রামটি হিন্দু মুসলমানের গ্রাম। উভয় সম্প্রদায়ের ধর্মকর্ম,—লোকাচার,হিন্দু সম্প্রদায়ের বারো মাসের তেরো পার্বন,মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি ঈদ পর্ব,এসব নিয়ে,হিন্দু মুসলমানের মধ্যে কখনো কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল মধুর সম্পর্ক। বিয়ে-শাদীতে ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে উভয়কেই পরস্পরের সাহায্য ও সহযোগিতা করতে দেখেছি। একই মাঠে পাশাপাশি চাষাবাদ করতে দেখেছি। একই বৃক্ষের ছায়ায় বসে গল্পগুজব করতে দেখেছি। রাতের বেলা গ্রাম পাহারায়ও দেখেছি উভয়ে পালাক্রমে গ্রাম পাহারা দিয়েছে। এই ব্যবস্থা-তো অতীত কাল থেকে চলে এসেছে। গ্রামের হাটখোলায় কিংবা মন্দির চত্তরে লোকগানের আসর,যাত্রাপালা,কবিয়ালদের কবিগান ইত্যাদি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে উভয় সম্প্রদায়কে উপভোগ করতে দেখেছি। দেশটা যে হিন্দু মুসলমানের ছিল— এতে কোনো সন্দেহ ছিলনা। বৃটিশ খেদাও আন্দোলনে উভয় সম্প্রদায়ের মনোভাব ছিল একই রকম। হঠাৎ করে দ্বন্দ্ব দেখা দিল। অভিজাত হিন্দু ও অভিজাত মুসলমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের কুশিলব উভয় সম্প্রদায়ের চাষা,কামার,কুমোর,জেলে-নিকেরি,ছুতোর ও ঘরামিরা ছিলনা। শেষ পর্যন্ত দেশ ভাগ হয়ে গেল। মাটি ভাগ হয়ে গেল। মানুষ ও ভাগ হয়ে গেল । এই সব ইতিবৃত্ত নিয়েই— ‘বাংলার সংস্কৃতি ও লোক জীবন’ গ্রন্থটি রচনা করেছি। আশা করি বিদগ্ধ পাঠকের কাছে গ্রন্থটি সমাদৃত হবে।