| লেখক | ড. সালমান আল আওদাহ, মুহাম্মাদ আলি |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
নিজেকে এগিয়ে নিন: দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা পেতে ধারাবাহিক পরিশ্রম করে যেতে হয়। প্রতিনিয়ত নিজেকে একটু একটু করে এগিয়ে নিতে হয়। সফল হওয়ার পথে কোনো অবসর বা বিরাম নেই। এ পথে থেমে যাওয়া মানে পথ হারিয়ে ফেলা। সফল ব্যক্তিদের জীবন হিসেব করলে দেখা যায়, তাদের সফলতার মূলমন্ত্র ছিল—লক্ষ্য পানে অবিরাম এগিয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত আমল করা। মুমিন-জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং জাহান্নাম থেকে বেঁচে জান্নাতে যাওয়া। এটিই মহা সফলতা। পবিত্র কুরআনের ভাষায় আল-ফাওযুল কাবীর। এ জন্য একজন মুমিন আল্লাহর বিধান মেনেই তার জীবন পরিচালিত করে। মুমিন কখনো আমলশূন্য অলস বসে থাকতে পারে না। তবে সামনে অগ্রসর হতে হলে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য অপরিহার্য। আর আল্লাহ কেবল তাদেরই সাহায্য করেন, যারা নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার মজবুত সংকল্প করে এবং অল্প করে হলেও নিয়মিত আমল জারি রাখে। এ বিষয়ে ইমাম ইবনু রজব হাম্বালি r-এর একটি অনবদ্য রচনা হলো আল-মাহাজ্জাহ ফী সাইরিদ দুলজা। আলহামদুলিল্লাহ, উপকারী সেই গ্রন্থটিরই অনুবাদ—নিজেকে এগিয়ে নিন। গ্রন্থটিতে আমলবিষয়ক এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা জানা সবার জন্য জরুরি। কে আমি! নিজের মধ্যে ভ্রমণ: ইসলামি সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে উপজীব্য করে লেখক সিরাত ও সাহাবিদের মধ্যকার গল্পের মিশ্রণে তুলে এনেছেন মনস্তাত্ত্বিক গোলকধাঁধার বিভিন্ন সমাধান। আপনসত্তার সাথে আচরণের সমৃদ্ধি ও মানসিক ভারসাম্য তৈরি করতে সহায়তা করে এমন রসদে ভরপুর বইটির প্রতিটি লাইন। বইটির চরণে চরণে লেখক মানব ব্যক্তিত্বের নানান স্তর, মাত্রা ও মেজাজ নিয়ে গল্পের ছলে আলাপ করেছেন। মসৃণ ও সহজ ভাষায় ডুবসাঁতার দেওয়া হয়েছে অবচেতন মন ও আত্মার অসংগতির খরস্রোতা মোহনায়। বইটিতে লেখকের কৃতিত্ব হলো, তিনি কেবল সমস্যার কথা উল্লেখ করে সন্তুষ্ট হননি, বরং সমাধান ও উপকারী পাথেয়ের পসরা মেলে ধরেছেন। যার মধ্য দিয়ে প্রিয় পাঠক লেখকের হাত ধরে একই উপত্যকায় হাঁটতে হাঁটতে আলাপচারিতায় জানবেন আত্ম-উন্নয়নের গোপন রহস্যগুলো। মোটকথা, একজন ‘আমি’-কে ঘিরে আবর্তিত হওয়া জীবনে পিতামাতা, সন্তান, জীবনসঙ্গী, সহকর্মী, বন্ধু, প্রতিবেশী কিংবা সমাজের দূরের কাছের মানুষগুলোর আয়নায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক রোমাঞ্চকর অভিসার এর গ্রন্থিত রূপই—‘কে আমি! নিজের মধ্যে ভ্রমণ’। বদলে ফেলুন নিজেকে: নিজেকে বদলাতে চাই, কিন্তু কীভাবে? আমার এ চাওয়া কীভাবে পূরণ হবে? আমি এমন এক পৃথিবীর সন্ধান চাই, যেখানে আমার জীবন হবে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল। এজন্য আমার প্রয়োজন মূল্যবান কিছু পরামর্শ ও দরদ মাখা কিছু উপদেশের। কারণ, আমি জীবনের বাস্তবতা থেকে ছিটকে পড়া এক ব্যক্তি। কে আছে, আমাকে এখান থেকে হাত ধরে উদ্ধার করবে? মুক্তির পথ দেখাবে? অন্ধকার থেকে বের করে তুলে আনবে সফলতার রাজপথে? জীবনের বাস্তবতা ও বিক্ষিপ্ত মুহূর্ত নিয়ে এ প্রশ্নগুলো অনেকেরই। বদলে ফেলুন নিজেকে বইটি এসব প্রশ্নেরই সরল সমাধান ও জীবন সাফল্যের সোপান। আমি আশাবাদী, এসব প্রশ্নের সঠিক সমাধান আপনি এই বইয়ে পেয়ে যাবেন। চলো পাল্টাই: মন, অন্তর, আত্মা, নফস, রুহ, ক্বলব, mind, soul, psyche … … কী রহস্যে ঘেরা এক জগত, কতই না তার গলিঘুপচি! খান্নাস যখন নাস-কে ওয়াসওয়াসা দেয়, সেটাও দেয় তার ‘সুদুর’-এ, বক্ষে, অন্তরে, মনে। সেই মন ও মনোজগৎকে বোঝার জন্য ফিজিক্স-কেমিস্ট্রি যথেষ্ট হয়নি। মানুষ গড়ে তুলেছে আলাদা শাস্ত্র – সাইকোলজি। কিন্তু আদৌ কি পাওয়া গেছে সবকিছুর উত্তর? পাওয়া সম্ভব? এই বইটির অধ্যায়গুলো সেই মনকে ঘিরেই আবর্তিত। মনটার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পরিশুদ্ধি, আবেগ, আসক্তি, অনুভূতি, রস, কষ এবং এর বন্ধু-শত্রুদের নিয়ে তুলে আনা হয়েছে টুকরো টুকরো কিছু ভাবনা। এগুলো কোনো উপসংহার নয়, বরং পাঠকের নিজের ভাবনাগুলোকে এগুলোর সাথে মিথষ্ক্রিয়ায় আনার আহ্বান মাত্র। তাহলে শুরু করা যাক, চলুন!