| লেখক | জাহিদ হাসান ওয়াসিক |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ছড়া , কবিতা ও আবৃত্তি |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
জোছনা মেখো রোদ “খোদা আর কত তুফানে দাঁড়াইলে আমার নাম হবে হিমালয় অথচ আমি তো চেয়েছিলাম শিমুলতুলার জীবন।” সৃষ্টিকর্তার কাছে একটি নরম শিমুলতুলার জীবনের প্রার্থনা দিয়ে শুরু তরুণ কবি জাহিদ হাসান ওয়াসিকের লিখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জোছনা মেখো রোদ’। যেই গ্রন্থে লেখক তার শব্দ-ছন্দের বুননে চেষ্টা করেছেন মানুষের জীবন, জীবনসংগ্রাম, কোলাহল, কলরব, নীরবতা, প্রেম, বিরহ, বিপ্লব প্রত্যেকটা অনুভুতির এক অপূর্ব উপাখ্যান রচনা করতে। তিনি যেমন একটি সহজ জলফড়িংয়ের জীবন প্রার্থনা করেছেন তেমনি আবার লিখেছেন- “ভয় করি না বুলেট গ্রেনেড, মিছিলেই আমি রবো” লিখেছেন “ভাঙতে আইলে গড়বো আরো, মারতে আইলে বাঁচবো তত।” অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার আওয়াজে তিনি ক্ষমা রাখেননি কোনোরূপ। আবার তার ‘গোলাপ যার অস্ত্র’ কবিতায় উনি কেবল ভালোবাসাকেই তার অস্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যাবতীয় বিষাদ, ক্ষোভের প্রতিবাদে ‘ভালোবেসে’ নিতে চেয়েছেন তার প্রতিশোধ। এছাড়া একজন প্রেমিকের চাতক রূপে প্রেম চেয়ে যাওয়াকেও সুনিপুন কালিতে বর্ণনা করে গেছেন তিনি একের পর এক কবিতায়। লিখেছেন প্রেমিকার প্রত্যাখান কিভাবে তাকে ব্যথিত করে, তোলপাড় করে দেয় তার দুনিয়া। প্রেমিকাকে ভালোবেসে তার সমস্ত জীবন সেই মানুষের বেণীতে বেঁধে দিতে চেয়েছেন, চেয়েছেন প্রিয়তমার শত বিষাদ চুরি করে নিজে গিলে ফেলতে সেই হেমলক। তিনি লিখেছেন কিভাবে আলো নিভে গেলে মানুষ একা, কিভাবে কারো দূর্দিনে কেউ থাকে না পাশে। তার লিখা থেকে বাদ যায়নি সুদূর ফিলিস্তিনও। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ফুটিয়ে তুলেছেন আল আক্বসা একদিন মাজলুমের হবে। লিখেছেন পিতা মাতার দীর্ঘায়ুর আবেদন। লিখেছেন সুদিনের অভিপ্রায়। এসকল অনুভূতি ও যাপিত জীবনের সেলাইয়েই বাঁধা হয়েছে ওয়াসিকের “জোছনা মেখো রোদ”। লেখক তার কল্পনায় জীবন আর তার বিপ্লব,সংগ্রাম কে ‘রোদ’ আর প্রেমকে ‘জোছনা’ কল্পনা করে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম রেখেছেন ‘জোছনা মেখো রোদ’। রোদে উত্তপ্ত সকল আত্মাকে আহবান করেছেন প্রেমের কোমল জোছনাডোবা পরশ মাখতে। শিরোনাম কবিতায় লিখেছেন— “মিছিল মশাল নিভাও খানিক সামলে রাখো ক্রোধ প্রেমের দোহাই একটু তুমি জোছনা মাখো রোদ” মেহফিল এ ওয়াসিক “উর্দু সাহিত্য এমন এক সুনেহরা নহর— যেখানে একবার ডুব দিলে আর ফিরে আসার ডাক কানে পৌঁছায় না।” গজল, হামদ-নাত, মেহফিল, মাওলিদ— এ সকল শব্দ, রীতি ও রেওয়াজের সঙ্গে আমার পরিচয় বলা যায় শৈশব থেকেই। আমার বেড়ে ওঠা ছিল এমনই এক রুহানী পরিবেশে; বস্তুবাদের চেয়ে আধ্যাত্মিকতাই জড়িয়ে ছিল যার হাওয়া-জলের পরতে পরতে। আমার মরহুম নানাজান ও তাঁর পরিবার ছিলেন সুফি ভাবধারার মানুষ। জিকিরে, সুরে, ছন্দে— স্রষ্টাকে কীভাবে সারাক্ষণ অনুভবে ও স্মরণে রাখা যায়, তা আমি তাঁদের থেকেই দেখেছি। নানাজানের মুখে শোনা একখানা গজল আজও আমার কানে বাজে, যার দুটি লাইন— “সাধক মনোরে সদায় থাকো যোগ ধিয়ানে (ধ্যানে), যোগ ধিয়ানে জ্ঞানও বাড়ে, রাইখো মাওলা স্মরণে।” আমি বিশ্বাস করি, ছন্দ, কবিতা ও ভাবের প্রতি আমার যে অনুরাগ— আমার এই সাধনা— তার শেকড়ও সেই রুহানী জমিনের গভীরেই প্রোথিত। আমার সাহিত্যপিয়াসী মন সদা সেই ধিয়ানেই খুঁজে ফেরে মানুষের অন্তরাত্মার আনন্দ-বেদনা, প্রার্থনা-আকুতির সালতামামি। আর এই লাগাতার সৌন্দর্যের সন্ধানই আমাকে একদিন টেনে নিয়েছে বিশ্বসাহিত্যের এক আশ্চর্য আসর— “উর্দু গজল-কবিতার মেহফিলে।” উর্দু সাহিত্য এমন এক সুনেহরা নহর— যেখানে একবার ডুব দিলে আর ফিরে আসার ডাক কানে পৌঁছায় না। ‘মেহফিল-এ-ওয়াসিক’— আমার এই কিতাবখানা প্রকাশের উদ্দেশ্যও মূলত, আমি যে অপার সৌন্দর্যের খাজানা পেয়েছি— স্থান ও কালের সীমানা ভেঙে তার উদযাপনে আমার প্রিয়জনদের শামিল করা। বইটি আমি সাজিয়েছি কবিতার মেহফিল বা মুশায়রার ঢঙে। নিজেকে ‘নাজিম’ বা উপস্থাপক পরিচয় দিয়ে পাঠকদের স্বাগত জানানো, শায়েরদের আমন্ত্রণ, তাঁদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, চা-বিরতি, বিদায়পর্বসহ— সর্বোপরি মুশায়রার ক্রম ও আবহ বর্ণনার মাধ্যমে চেয়েছি পাঠকদের মানসপটে উনিশ শতকের এক জাঁকজমকপূর্ণ মুশায়রার অভিজ্ঞতা তৈরি ও তার প্রতিচ্ছবি আঁকতে। সেই সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে উর্দু ভাষা উদ্ভবের ইতিহাস, শের-শায়েরির গঠনরীতি ও উপাদান, মুশায়রা এবং অন্যান্য সঙ্গতিপূর্ণ বিষয়েও আলোকপাত করেছি। উর্দু শের-শায়েরির ক্লাসিক কিংবদন্তি মীর তকি মীর, মির্জা গালিব, আকবর এলাহাবাদি থেকে শুরু করে সমকালীন জনপ্রিয় শায়ের আহমেদ ফারাজ, জউন এলিয়া, বশির বদরসহ প্রায় ২৫-এর অধিক খ্যাতনামা শায়েরদের বেশ কিছু শের-শায়েরি ও তার বাংলা ভাবানুবাদ রেখেছি। আমার জ্ঞানস্বল্পতায় অনুবাদে ভুলত্রুটি থেকে গিয়ে থাকতে পারে— সে সব ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে এড়িয়ে বাকি নিবেদনটুকু আমার অগ্রজ ও অনুজ সকল পাঠকজনের ভালো লাগবে— এই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছি। প্রিয়জনেরা আমার বিদায়বেলায় তবে মানবমনের সীমাহীন আশা-প্রত্যাশা নিয়ে মির্জা গালিবের বিখ্যাত শের গুনগুনিয়েই শেষ করছি— “হাজারো এমন ইচ্ছে ছিল আমার চাইতে গিয়ে বের হয়েছে দম। অনেক তার পূরণ হয়েছে বটে— তবু লাগে তাহাও যেন কম।”