| লেখক | তানজিনা |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইতিহাস ও ঐতিহ্য |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 208 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
শতাব্দী কখনো শুধু সময়ের একক নয়; এটি মানুষের বেঁচে থাকার ধারাবাহিক দলিল, স্বপ্নভঙ্গের হিসাব, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যকার দ্বন্দ্বের নীরব সাক্ষ্য। আমাদের এই শতাব্দী যা প্রযুক্তির বিস্ময়, দ্রুতগতির জীবন, তথ্যের প্রাচুর্য আর একই সঙ্গে মানবিকতার ক্রমক্ষয়কে বহন করছে তা যেন ক্রমেই বিবর্ণ হয়ে উঠছে। সেই বিবর্ণতার নানা রঙ, নানা শেড, নানা বাস্তবতা নিয়েই রচিত হয়েছে এই যৌথ গল্পগ্রন্থ বিবর্ণ শতাব্দী। এই গ্রন্থে ৩৩ জন লেখক ও লেখিকার কলমে ফুটে উঠেছে সমসাময়িক জীবনের বহুমাত্রিক ছবি। এখানে আছে নগর জীবনের একাকিত্ব, গ্রাম-বাংলার পরিবর্তিত বাস্তবতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক ছায়া, ধর্মীয় অনুভূতির সংকট, প্রযুক্তি নির্ভর মানুষের মানসিক বিপর্যয় এবং ব্যক্তি মানুষের অন্তর্দহন। প্রতিটি গল্প যেন সময়ের একটি করে আয়না, যেখানে পাঠক নিজেকেও কখনো কখনো আবিষ্কার করবেন অচেনা অথচ পরিচিত এক মুখ হিসেবে। “বিবর্ণ” শব্দটি এখানে হতাশার একমাত্র প্রতীক নয়; বরং এটি প্রশ্নের, অনুসন্ধানের ও আত্ম সমালোচনার রঙ। এই শতাব্দী বিবর্ণ কারণ আমরা হয়তো অনেক কিছু পেয়েও অনেক কিছু হারিয়েছি মানবিক উষ্ণতা, সহমর্মিতা, ধীরতার সৌন্দর্য। গল্পগুলো সেই হারানোর বেদনা যেমন তুলে ধরে, তেমনি কোথাও কোথাও আশার ক্ষীণ আলোও জ্বালিয়ে রাখে। অন্ধকারের মধ্যেও আলো খোঁজার এই প্রবণতাই সাহিত্যের চিরন্তন শক্তি। এই গ্রন্থের বিশেষত্ব এর বহুস্বরতা। ৩৩টি ভিন্ন কণ্ঠ, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, ভিন্ন ভাষাশৈলী সব মিলিয়ে এক সম্মিলিত সুর তৈরি করেছে, যা একক কোনো লেখকের পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ লিখেছেন নির্মোহ বাস্তবতায়, কেউ প্রতীকী ভাষায়, কেউ আবার গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে। এই বৈচিত্র্যই বিবর্ণ শতাব্দীকে করেছে সমৃদ্ধ ও জীবন্ত। পাঠক এখানে একই বিষয়ের নানা ব্যাখ্যা পাবেন, যা চিন্তার জগৎকে আরও প্রসারিত করবে। সম্পাদক হিসেবে আমাদের প্রয়াস ছিল লেখকদের স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর অক্ষুণ্ন রেখে একটি সুসমন্বিত গ্রন্থ উপহার দেওয়া। কোনো গল্পকে অন্য গল্পের ছায়ায় ঢেকে না দিয়ে প্রত্যেকটিকে তার নিজস্ব আলোয় উজ্জ্বল করে তোলাই ছিল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, সাহিত্য কোনো একক সত্যের ঘোষণাপত্র নয়; এটি বহুসত্যের সহাবস্থান। এই গ্রন্থ সেই সহাবস্থানেরই একটি প্রয়াস। বিবর্ণ শতাব্দী শুধুই গল্পের বই নয়; এটি সময়কে বোঝার, মানুষকে বোঝার এবং নিজেকে প্রশ্ন করার এক সুযোগ। পাঠক যদি কোনো গল্প পড়ে থমকে যান, ভাবেন, অস্বস্তি অনুভব করেন কিংবা নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন- তবেই এই গ্রন্থের সার্থকতা। কারণ ভালো সাহিত্য আরাম দেয় না সবসময়; অনেক সময় তা বিবেককে নাড়িয়ে দেয়, ভাবনার দরজা খুলে দেয়। সবশেষে, এই গ্রন্থের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি লেখক ও লেখিকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। তাঁদের শ্রম, নিষ্ঠা ও সাহসিকতাই এই সংকলনকে সম্ভব করেছে। প্রকাশকের প্রতি কৃতজ্ঞতা যাঁরা এই বিবর্ণ সময়েও সাহিত্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর পাঠকের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা যাঁদের হাতে বইটি পৌঁছে দিয়ে আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এখনো শব্দের শক্তি ফুরিয়ে যায়নি। এই গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে পাঠক যদি আমাদের শতাব্দীর বিবর্ণতার ভেতরেও মানুষের মুখ, অনুভূতি ও সম্ভাবনাকে নতুন করে আবিষ্কার করেন-তবে বিবর্ণ শতাব্দী তার উদ্দেশ্য পূরণ করবে।