| লেখক | ইয়াসির নাদিম, ডক্টর শহীদুল ইসলাম ফারুকী |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
বিশ্বায়ন : সাম্রাজ্যবাদের নতুন স্ট্রাটেজি এটি ইসলামী গবেষণা ভিত্তিক একটি গ্রন্থ, যাতে একুশ শতকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে ইহুদী-মার্কিনীদের সবচেয়ে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র ‘বিশ্বায়ন’ তথা নতুন বিশ্বব্যবস্থার মুখোশ উন্মোচন করা হয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী পশ্চিমা আধিপত্য বিস্তারের একটি সুপরিকল্পিত নব্য-সাম্রাজ্যবাদী কৌশল ও নব-উপনিবেশবাদের আধুনিক রূপ। এই বিশ্বায়ন বিশ্বকে এমন এক ‘পল্লীতে’ রূপান্তরিত করতে চায়, যার নেতৃত্ব থাকবে মার্কিনীদের হাতে এবং কর্তৃত্ব চলবে ইহুদীদের। বইটিতে ইহুদী-মার্কিনী বিশ্বায়নের স্বরূপ, এর পেছনের রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্দেশ্য, মানবতা বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপর এর সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকসমূহ, মুসলিম বিশ্বে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব এবং এর মোকাবিলায় মুসলিম উম্মাহর করণীয় সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে, যা ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাভাষী পাঠকদের মধ্যে যারা বিশ্বায়ন এবং এর নেপথ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য ও অতুলনীয় গ্রন্থ। বাংলা ভাষায় বিশ্বায়ন নিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ এবং গবেষণামূলক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মাকাসিদুশ শরীআহ `মাকাসিদুশ শরীআহ’র অর্থ ইসলামী শরীআহ’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। পৃথিবীর প্রতিটি কাজের পেছনেই কোনো না কোনো লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সে কাজটি পরিচালিত হয়। একইভাবে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জীবন পরিচালনার জন্য যে বিস্তৃত বিধিবিধান দিয়েছেন, তার পেছনেও রয়েছে সুমহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সালাত, সাওম, হজ্ব, যাকাত, বিবাহ, পর্দা, জিহাদ, অর্থনীতি, হুদূদ ও কিসাস কোনোটিই নিছক কোনো রীতির নাম নয়। এর পেছনেও রয়েছে মানবজাতির কল্যাণ ও হিকমত। এককথায় যে কল্যাণ ও হিকমতকে সামনে রেখে আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য বিধিবিধিান দিয়েছেন, সে কল্যাণ ও হিকমতকেই ‘মাকাসিদুশ শরীআহ বলা হয়। মাকাসিদুশ শরীআহ কুরআন ও সুন্নাহ প্রদর্শিত মানব কল্যাণমুখী ইসলামী আইন দর্শনের নাম। এর মূল বক্তব্য হচ্ছে শরীআহ’র যাবতীয় বিধিবিধানের মাধ্যমে মানুষের দ্বীন, জীবন, বিবেক–বুদ্ধি, বাংশধারা ও সম্পদ সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং যাবতীয় অকল্যাণ ও ক্ষতি থেকে তাদের রক্ষা করা। কুরআন ও সুন্নাহ’র সঠিক মর্মার্থ বুঝতে এবং তা থেকে কোনো বিধান উদঘাটন করতে শরীআহ’র মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানা জরুরি। তাছাড়া শরীআহ উলূমে গভীরতা অর্জন এবং ফতোয়া, দাওয়াহ, তালীম, তাযকিয়াহ, খেদমত, জিহাদ, গবেষণা, ওয়াজ–নসীহত ইত্যাদি যে কোনো দীনি কাজ আঞ্জাম দিতে মাকাসিদুশ শরীআহ’র জ্ঞান আবশ্যক। মাকাসিদুশ শরীআহ শাস্ত্রটি আধুনিক যুগের নিত্যনতুন সমস্যাবলীর সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব কারণেই এটি ইসলামী আইন বিষয়ক জ্ঞানের একটি সমৃদ্ধ শাখা ও স্বয়ংসম্পূর্ণ শাস্ত্র হিসেবে আজ মুসলিম বিশ্বের ইসলামী শিক্ষা কারিকুলামে গুরুত্বসহকারে পাঠদান করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের ইসলামী কারিকুলামে এ বিষয়টি এখনো গুরুত্ব পায়নি। অথচ কুরআন, হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রে গভীর বুৎপত্তি অর্জন, পরির্তনশীল বিশ্বে ইসলামের প্রচার–প্রসার এবং একুশ শতকে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহ’র বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বায়নের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ‘মাকাসিদুশ শরীআহ’ শাস্ত্রটি একটি মাইলফলক বিবেচিত হতে পারে। বইটি মাদরাসার তাখাসসুসাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ম অনুষদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিভাগসমূহের পাঠ্যপুস্তক হিসেবে প্রণীত হয়েছে। বইয়ের ভূমিকা লেখকগণও এ বিষয়ে সুপারিশ করেছেন। বইটি রচনা করেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও চিন্তক আলিম ডক্টর মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী। বইটি প্রতিটি আলিম, মুফতি, মুহাদ্দিস, দাঈ, গবেষক, বক্তা ও তালিবে ইলমের জন্য একটি জরুরি বই।