Whatsapp: +8801567808596

  |  

Track Order

বিভূতিভূষণ সমগ্র (সতীর্থ ভিন্টেজ ভার্সন ২) (পেপারব্যাক)

বিভূতিভূষণ সমগ্র (সতীর্থ ভিন্টেজ ভার্সন ২) (পেপারব্যাক)

৳2260
৳1130
বইসমূহ- আদর্শ হিন্দু হোটেল দেবযান কেদার রাজা আরণ্যক চাঁদের পাহাড় হীরামানিক জ্বলে আদর্শ হিন্দু হোটেল ‘বাঙালি’ এর সংজ্ঞায়নে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বাক্যটি বহুল প্রচলিত। অর্থাৎ বাঙালি যে রসনাবিলাসি এ কথাটি অনস্বীকার্য এবং অবধারিত। এর বিপরীতে ব্যাখ্যা করলে বাঙালি
  লেখক   বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  প্রকাশনী

 সতীর্থ প্রকাশনা

  সংস্করণ   May 22, 2026
  catagory  সাহিত্য ও উপন্যাস
  Language   বাংলা
  Number of Pages   0
  Cover Type   পেপার ব্যাক

বইসমূহ- আদর্শ হিন্দু হোটেল দেবযান কেদার রাজা আরণ্যক চাঁদের পাহাড় হীরামানিক জ্বলে আদর্শ হিন্দু হোটেল ‘বাঙালি’ এর সংজ্ঞায়নে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ বাক্যটি বহুল প্রচলিত। অর্থাৎ বাঙালি যে রসনাবিলাসি এ কথাটি অনস্বীকার্য এবং অবধারিত। এর বিপরীতে ব্যাখ্যা করলে বাঙালি যে অঞ্চলভেদে রন্ধনপটিয়সী সে বিষয়টিরও নীরব সাক্ষ্য প্রদান করে। এই রন্ধনশিল্পের উন্মেষ ঘটেছে মূলত গ্রামীণ তৃণমূল ঠাকুরদের হাত ধরে। তেমনই এক রন্ধন ঠাকুর হাজারি দেবশর্মা; যিনি একাধারে কপর্দকশূন্য, সমাজে অবহেলিত। অথচ হৃদয়ে লালন করেন এমন একটি হোটেলের স্বপ্ন, যেখানে তিনি মানুষের আত্মতৃপ্তির মাঝেই খুঁজে পেতে চান তাঁর শিল্পের আত্মতুষ্টি। আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসটি সময়কে অতিক্রম করে জীবনের সার্বজনীন সত্যকে ধারণ করে। এখানে সাধারণ জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে মানবিকতা, সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা ও স্বপ্নের রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে। যেখানে নেই কোনো নায়কোচিত নাটকীয়তা, আছে শুধুই সত্য ও সংগ্রামের মহিমা। তাই হাজারি ঠাকুরের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞাপন হিসেবে দু’টি কথা বলাই যায়- আদর্শ হিন্দু-হোটেল বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এঁর স্বহস্তে রচিত। প্রেরণাদ্যোতক, আগ্রহোদ্দীপক, হৃদয়গ্রাহী এবং সুখপাঠ্য সাহিত্যের অনন্য পদ। কল্পিত চিত্রে চিত্রিত ও সুলভ মূল্যে সহজলভ্য। আসুন! পড়ুন!! উপভোগ করুন!!! দেবযান যতীন, চঞ্চল জগতের এক নিঃসঙ্গ গ্রহবাসী। দেহজ কারাবাস থেকে সহসা আত্মার মুক্তিতে তার সামনে উম্নোচিত হয় আরেক জগত। এরপর তার যাত্রা শুরু হয় প্রেতলোক হতে দ্যুলোক, সন্ধ্যালোক পেরিয়ে চৈতন্যলোকের পথে। আত্মার এই অপার উন্মেষ, জীবন ও মৃত্যুর সীমারেখা ছুঁয়ে দেখার এক সূক্ষ্ম দর্শন। এভাবেই যতীন খুঁজে ফেরেন নিজেকে, পূর্বজন্মের স্মৃতি আর পরম সত্যের সান্নিধ্যে তাঁর আত্মা ধীরে ধীরে খুঁজে পায় মুক্তির ঐশীজ্যোতি। দেবযান মূলত এক সবাক জিজ্ঞাসার নির্বাক উত্তর, যেখানে জীবন যেন মৃত্যুর আবেশে ঘেরা এক আধ্যাত্মিক প্রতিধ্বনি— অন্তরালে অপরূপ অনাবিল, অনন্ত। দেবযানকে তাই মোটাদাগে উপন্যাস হিসেবে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা গেলেও আদতে এটি একটি আধ্যাত্মিক পরিভ্রমণের কাল্পনিক দিনলিপি; কিংবা সাহিত্যের গম্ভীর শব্দে ফিলোসফিক্যাল ফ্যান্টাসি বা মেটাফিজিক্যাল ফ্যান্টাসি। যেখানে যতীন, পুষ্প, আশালতা, প্রানায় দেবী, করুণা দেবী, বেদান্তিন সন্ন্যাসী ইত্যাদি চরিত্রসমূহকে পুঁজি করে, দর্শন ও ধর্মের মৌলিক বিষয়সমূহকে মনস্ততত্ত্বের আবহে আত্ম-কথোপকথনের মাধ্যমে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় দেবযান শীর্ষক উপন্যাস রচনা করেছেন। কেদার রাজা কেদার রাজা—গড়শিবপুর রাজবংশের এক প্রান্তিক উত্তরসূরী, রাজা হয়েও যিনি রাজসিক অহংবোধের আবরণ থেকে মুক্ত। জীবন যেন তার কাছে নদীর মতো আপন গতিতে বয়ে চলা নির্লিপ্ত, নিরুপদ্রব। তাঁর একমাত্র কন্যা শরৎসুন্দরী। রূপে গুণে লক্ষ্মী, যার সৌন্দর্যের বাইরেও রয়েছে অপার মমত্ব এবং আত্মমর্যাদাবোধ। কিন্তু বহতা জীবন নদীর বাঁকে শহুরে চতুরতা ও দুর্বৃত্ততার বিষ তাদের জীবনে ডেকে আনে ঘোর অমানিশা। শহুরে কূটকৌশল ধ্বংস করে দেয় শরৎ ও কেদার রাজার শান্ত জীবন। রচিত হয় বাবা ও কন্যার অনাকাঙ্ক্ষিত বিচ্ছেদ। তবুও যে অলীক সুখের স্বপ্ন সায়রে ভেসে ফেরারি হলেন কেদার রাজা, সেই কেদার রাজাকেই ভ্যাগ্যদেবী কৃপাদৃষ্টিতে বেঁধে নিলেন বাহুডোরে। হতে পারে তা অলীক কোনো গল্প কিংবা রূপকথার কোনো জাদুময়তা; কিন্তু অদৃষ্টের লেখন ফেরাতে পারেই বা ক’জন! আরণ্যক আরণ্যক- গহন অরণ্যের এক স্বাপ্নিক দিনলিপি। সত্যচরণের বয়ানে রচিত এই উপন্যাসে উঠে এসেছে বিষাদের কাব্য, ঝর্ণার রাগ, কুহুর কলতান আর বিটপীর প্রাণ। যান্ত্রিক সভ্যতার গতিময় জীবনযাত্রায় বেড়ে ওঠা সত্যচরণ একদিন হার মানে অরণ্যের ডাকে। নিবিড় বনানীর রক্ষক হয়ে তার নিশিদিন গুজরান হয় ধাওতাল সাহু, ধাতুরিয়া, রাজু পাঁড়ে, যুগল প্রসাদের সাহচর্যে। আর আছে কাদামাটিতে গড়া এক রাজকন্যা, ভানুমতি! ক্রমেই সত্যচরণের নিকট গভীর অরণ্য হয়ে ওঠে এক অপঠিত প্রতিচ্য পুরাণ; মৃত্তিকাবক্ষে নিঃশব্দে জুড়ে আছে অথচ তার পত্রের মর্মরধ্বনি বেজে ওঠে অন্তরের অলক্ষ্য বীণায়। প্রহরশেষে জ্যোৎস্ন্যাকিরণ যখন ঝরে পড়ে বনানীর বুকে তখন ধরণী হয়ে ওঠে যেন রূপ-পরীদের জলধি। প্রতিটি পুষ্প, প্রতিটি প্রাণ, পবন, স্পন্দন মন্ত্রপূত হয়ে জেগে রয় নিশিভোর। প্রিয় পাঠক, স্বাগত সেই অরণ্যপুরাণে! চাঁদের পাহাড় শঙ্কর রায়চৌধুরী—এক বাঙালি তরুণ, অলীক স্বপ্নের ভেলায় চড়ে পাড়ি জমায় শ্বাপদসংকুল আফ্রিকা মহাদেশে। যেখানে মৃত্তিকা বক্ষে মিশে থাকে সিংহের পদচিহ্ন, অরণ্য গায় মৌনগান, আগ্নেয়গিরির বুক চিরে বেরিয়ে আসে উষ্ণ নিঃশ্বাস। সেখানে তার সাক্ষাৎ ঘটে পর্তুগিজ অভিযাত্রী আলভারেজের সঙ্গে। যিনি শুনিয়েছিলেন কালের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া এক শৃঙ্গ অভিযানের ব্যর্থ কাহিনী, সঙ্গে এক অদেখা কিংবদন্তী দানব ‘বুনিপ’-এর ভয়াল স্মৃতি। এসবের মাঝেই যেন শঙ্কর খুঁজে পায় জীবনের মানে। চাঁদের পাহাড় নিছক কোনো গল্প নয়! এ এক তরুণ অভিযাত্রীর আত্ম অন্বেষণ; এক নৈঃশব্দ্যের সংগীত; যেখানে জীবন ও প্রকৃতি মিলিত হয় অভিন্ন ঐকতানে। হীরামানিক জ্বলে সুদূর সমুদ্র তটে অবস্থিত এক দ্বীপ, সেথায় প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে লুকিয়ে আছে এক অজানা রাজ্যের নিদ্রিত মহিমা। যার নোনা ধরা প্রস্তর দেয়ালে লেগে আছে ধূসর ইতিহাস, চিরনির্জন অরণ্য যেথায় অতন্দ্র প্রহরী-মৃত্তিকা বক্ষে লুকানো রয় হীরক, মণি-মাণিক্য। সেই অজানা সভ্যতার গুপ্তধন পুনরুদ্ধারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় সুশীল, সনৎ ও জামাতুল্লাহর অভিযাত্রা। “হীরামানিক জ্বলে” সেই অভিযাত্রার জবানবন্দি যেখানে প্রকৃতি, নৈতিকতা ও অন্তর্জগতের মিথস্ক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় এক অনুপম দিপ্তিময় প্রতিসরণ যা জ্বলে ওঠে মানুষের হৃদয়ের গহনে; হয়তো ক্ষণিক, তবু চিরস্থায়ী এক দীপ্তি হয়ে।

বইয়ের রেটিং: (0.00/5, 0 রেটিং)
রেটিং দিতে লগইন করুন।