| লেখক | হাসান রাউফুন |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | শিশু কিশোরদের বই |
| Language | : বাংলা |
| Number of Pages | 128 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
নিয়মকানুন শিখে লেখক হওয়া যায়? এমন প্রশ্ন ও বিতর্ক বহু দিনের। তবে সুন্দর,শুদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে এবং রচনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে নিয়মকানুন জানা জরুরি। সাহিত্য যদি জীবনের আয়না হয় তাহলে জীবন তো নিয়মকানুনের বাইরে নয়। মানতেই হবে তেমন নয় তবে জানা জ্ঞানীর কাজ। ছড়া-ভাবনা সবাইকে তাড়িয়ে বেড়ালেও ছড়া উপস্থাপন করা অত্ত সহজ নয়। লিখিত ছড়াটি যখন তাত্ত্বিকের চোখে পড়ে তখন তিনি বলে ফেলেন―এটি তো ছড়া হয়নি। ছড়াকার বিস্ময়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাত্ত্বিকের দিকে তাকিয়ে থাকলে তিনি আবার বলেন,এটি তো পদ্য হয়েছে,কবিতা বা ছোটোদের কবিতা হয়েছে। শব্দ,বাক্য,ছন্দ,অলংকার,রস,ব্যাকরণ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে তবু কেন ছড়া হয়নি? প্রশ্ন থেকে যায়। ছড়ার কি তাহলে বিশেষ উপস্থাপন রয়েছে,বাগ্্ভঙ্গি রয়েছে? ছড়া যেহেতু আলাদা সত্তা সেহেতু আলাদা বৈশিষ্ট্যও রয়েছে,এটির আলাদা রচনাশৈলী রয়েছে। কী সেসব? এসব প্রশ্নের সমাধান দিতেই গ্রন্থটি রচিত। ছড়া আলাদা করে চোখে ধরা পড়বে শব্দ ব্যবহারে এবং এর বাগ্্ভঙ্গিতে। বিষয়-অনুষঙ্গের আশ্রয়-প্রশয়,বক্তব্য প্রবহমানতায় ছড়ার অর্থবন্ধন,ধ্বনিপ্রদান শব্দ,ছন্দ,অলংকার,রস,ব্যাকরণ,বাগ্ভঙ্গি ও উপস্থাপনশৈলী ছড়া হয়ে উঠতে সাহায্য করে। প্রশ্ন হলো ছড়া রচনাকৌশল কি কাউকে শেখানো যায়? আমি মনে করি,সাহিত্যের যেকোনো শাখার দুটি দিক রয়েছেÑ একটি সৃজনশীল আরেকটি কারিগরি বা ব্যাকরণ। সৃজনশীল ঐশিকভাবে আসলেও জ্ঞান,অভিজ্ঞতা ও চর্চার দ্বারা বৃদ্ধি পায়। আর ব্যাকরণ বই বা কারো মাধ্যমে হাতেকলমে শিখতে হয়। তবে একটি মননশীল বই দুই দিকের ধারণা স্বচ্ছভাবে দিতে সক্ষম। ‘ছড়ার ছক্কা : ছয় নিয়মে ছড়া লেখা’ একটি অভিনব গ্রন্থ। ছয় নিয়মে ছড়া লেখা যায়―এখানে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন যে নিয়মকানুন বা ব্যাকরণ জেনে তাও আবার ছয় নিয়মে ছড়া লেখা―অমূলক। আমি মনে করি,ছড়া লেখার জন্য অনেক জানা প্রয়োজন তবে অল্প জেনে ভালো ছড়া রচনাও বড়ো কৃতিত্ব। একজন সৃজনশীল মানুষ যত অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন তত সৃজনক্ষমতার অধিকারী হবেন,ভালো রচনা উপহার দেবেন―এই কথার বিকল্প নেই। তবে কিছু নিয়মের মাধ্যমে গোল দেওয়ার চেষ্টাও তিনি করতে পারেন। একজন ছড়াকার শুধু ছড়া লিখে ছড়াকার হবেন স্বাভাবিক কিন্তু তিনি ছড়ার ইতিহাস,খাঁটি ছড়া,ছড়া-পদ্য-কবিতার পার্থক্য,ছড়ার প্রকরণ,ছড়ার বাগ্ভঙ্গি,ছড়া সমালোচনা ইত্যাদি জানবে না তা তো নয়। ছড়াকার সবকিছু মাথায় রেখ ছড়া রচনা না করলেও ছড়া লেখার পরে সম্পাদনা করেন,ব্যাকরণ ঠিক করেন। ছড়া রচনার ধারাবাহিকতায় ছয়টি নিয়ম ইতিবাচক হতে পারে। ছয়টি নিয়ম জেনে ছড়া রচনা করলে ছড়া-রচনাশক্তি বাড়বে বৈ কমবে না।