Whatsapp: +8801567808596

  |  

Track Order

চিন্তার পুনর্জাগরণ প্যাকেজ

চিন্তার পুনর্জাগরণ প্যাকেজ

৳3211
৳2567
চিন্তাপরাধ ‘যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন করা যাবে না কাঠামো নিয়ে, বিশ্বব্যবস্থা আর সাম্রাজ্য ন
  লেখক   সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.), সাঈদ মুহাম্মাদ আবরার
  প্রকাশনী

 আশ-শিফা পাবলিকেশন

  সংস্করণ   May 22, 2026
  catagory  ইসলামি বই
  Language   বাংলা
  Number of Pages   0
  Cover Type   Unknown Cover

চিন্তাপরাধ ‘যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন করা যাবে না কাঠামো নিয়ে, বিশ্বব্যবস্থা আর সাম্রাজ্য নিয়ে। প্রশ্ন করা যাবে না হুবালের কর্তৃত্ব নিয়ে। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের যুগে এটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। অপরাধী বলে বিবেচিত হবার জন্য কিছু করার, এমনকি বলারও প্রয়োজন নেই, সিস্টেমের বিরুদ্ধে কোনো চিন্তা থাকাই যথেষ্ট। এসব চিন্তা অবৈধ, এসব চিন্তা অপরাধ। যে শরীয়াহর অনুসরণ কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ মানবজাতির ওপর ফরয করেছেন, যুগের হুবালের বিরুদ্ধে গিয়ে অ্যামেরিকান বিশ্বব্যবস্থার মোকাবেলায় সেই শরীয়াহ বাস্তবায়ন হোক এটা চাওয়া–কিছু করাও না, কিছু বলাও না–শুধু এটা চাওয়া অপরাধ। কিছু করার দরকার নেই, বলার দরকার নেই, চিন্তাটাই অপরাধ। থটক্রাইম। চিন্তাপরাধ। ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ‘ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা’ বইটি মূলত ওল্ড ওয়ার্ল্ড অর্ডার থেকে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ইতিহাস নিয়ে রচিত। বইটি পাঠ শেষ হওয়ার পর পাঠক নিজ থেকেই এই প্রশ্নগুলোর জবাব পেয়ে যাবে বর্তমান সময়ে মুসলিমদের কোন পথে অগ্রসর হওয়া উচিৎ? তাদের দাওয়াতের মূল ভিত্তি কী হওয়া জরুরী? তাদের মূল শত্রু কারা? কী তাদের এজেন্ডা ও কর্মপদ্ধতি? লেখক ইতিহাস লেখার মধ্য দিয়ে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারাগুলো অনেক সহজভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সেই সাথে সহজ ভাষায় এগুলোর জবাবও লিখেছেন। নিশ্চিতভাবে পশ্চিমাদের ইতিহাস জানা ছাড়াও পশ্চিমাদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারা বোঝার জন্য এই বইটি অধ্যয়ন অনেক উপকারী হবে। . বর্তমান সময়ে চলমান ফিতনার জোয়ারে ভেসে যাওয়া ঈমান ধরে রাখা বড়ই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতে নিজের ঈমান বাঁচানোর জন্য বিশ্বব্যবস্থার ঈমান বিধ্বংসী যাবতীয় বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা প্রতিটি মুসলিমের অন্যতম প্রধান ঈমানি দায়িত্ব। মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো? এই মহামূল্যবান বইটি লেখা হয়েছিল আরবীতে ‘মা যা খাসিরুল আলাম বি ইনহিত্বাতিল মুসলিমীন’ নামে। এটি ১৯৫০ সালে মিশরের কায়রো একাডেমী অফ রিসার্চ এর জন্যে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের সাথে সাথেই বইটি আরব বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। এক বছরের মধ্যেই বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ ছাপাতে হয়েছিল যেটিতে শহীদ সাইয়িদ কুতুব (রহঃ) সুন্দর একটি ভূমিকা লিখে দেন। এ বইটি এ পর্যন্ত পারস্য, ইংরেজী, তুর্কি, উর্দু, হিন্দী, বাংলাসহ অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বাংলা ভাষায় মাওলানা আবু তাঁহের মিছবাহ (দা.বা.) হুজুরের অনুবাদটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে যা দারুল কলম থেকে প্রকাশিত হয় আপনি কেন বইটি পড়বেন কিংবা কেন প্রত্যেক সচেতন মুসলিমের বইটি পড়া উচিত সেটা বোঝাতে আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মুহম্মদ ইউসুফ মূসা রহ. এর একটা কথা না বললেই নয়। তিনি বলেন, “বইটি হাতে পেয়ে একদিনেরও কম সময়ে তা পাঠ করেছি। এমনকি পড়া শেষ করে আমার কপিটির শেষ পৃষ্ঠায় এ বাক্যটি লিখে রেখেছি- “ইসলামের মর্যাদা ও গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে, এমন প্রত্যেকের অপরিহার্য কর্তব্য হলো, এ বইটি পড়া (এবং মনে রাখা)। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে বিশ্বের অবস্থা কেমন ছিল? ইসলামের আগে বিশ্বের জাতিগুলোর মানবিক আচার-ব্যবহার, সামাজিক শ্রেণীবিভাগ, অর্থনীতি, ধর্মীয় আকীদা এবং জীবনযাপনের রীতিই বা কেমন ছিল? সমাজের উচু আর নিচু শ্রেণীর বৈষম্য কী পরিমাণে ছিল? সে সময়ের জালিম শাসকদের স্বরুপ কেমন ছিল? নবী (সা) বিশ্বমানবতায় কী পরিবর্তন আনলেন? নবী (সা) এর শিক্ষকতায় তার সাহাবা (রা) গণ যে ধর্মীয় প্রশিক্ষণ আর মানবিকতার উন্নয়ন সাধনের শিক্ষা লাভ করেছিলেন তা কীরুপ ছিল? মুসলিমরা বিশ্বের নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পরিণতি কী ছিল? মুসলিম দেশগুলোতে মানবতার অবস্থা কীরুপ ছিল আর শাসকগন কতটুকু ন্যায়পরায়ণ ছিলেন? তারপর মুসলিমদের পতন হওয়া কেন শুরু হয়েছিল? কোন জিনিসগুলো বদলে যাওয়ায় মুসলিমদের পতন হল? মুসলিমদের পতন আর ইউরোপের উত্থানে ক্ষমতার এ পালাবদলে বিশ্ব কোন ক্ষতিগুলোর সম্মুখীন হচ্ছে? —– এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার জন্যেই বইটি পড়বেন। মাইলস্টোন সাইয়িদ কুতুব শহিদ বিংশ শতাব্দীর আলোচিত চিন্তক, লেখক ও বিপ্লবী। তাঁর প্রদীপ্ত জীবন, যুগান্তকারী সাহিত্য ও অবিচল শাহাদাত ইসলামি পুনর্জাগরণ আন্দোলনের কর্মীদের জন্য প্রেরণা সঞ্চারী। মাইলস্টোন সাইয়িদ কুতুব শহিদের সবচেয়ে আলোচিত বই। এটি তাঁর রচিত শেষ বইও বটে। মূল আরবি নাম মাআলিম ফিত তারিক। এই বইটিকে তাঁর শাহাদাতের অন্যতম উপলক্ষ্য মনে করা হয়ে থাকে। অতএব, বলা যায়—মাইলস্টোন যেমন সাইয়িদের কলমের কালি দিয়ে লেখা, তেমনি শাহাদাতের রক্ত দিয়েও লেখা। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় গত শতাব্দীর ষাটের দশকে। তখন থেকে আজতক ইকামতে দ্বীনের কর্মনীতি নির্ধারণে বইটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বিবেচিত হয়ে আসছে। সমাজ বিপ্লবের রুপরেখা জুলুম নির্যাতনে ভরা দুনিয়ার দিকে তাকালে, মনটা ছটফট করে ওঠে। এই ঘোর অমানিশা কাটিয়ে নতুন ভোর দেখতে চায় প্রতিটা তরুণ মন। দিন বদলের স্বপ্ন দেখে হাজারও উচ্ছ্বল প্রাণ। স্বপ্ন দেখে জুলুম-নির্যাতন-মুক্ত এক সুন্দর পৃথিবীর। সেই পৃথিবী কি পশ্চিমা আদর্শের দ্বারা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব? অসভ্যতার ধারক-বাহকরা কি দিতে পারবে মানবতার মুক্তি? পশ্চিমা জাহিলিয়াত যা কল্পনাও করতে পারেনি, ইসলাম সেটা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে হাজার বছর আগে। ইসলাম তার নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দিয়ে শাসন করেছে অর্ধ জাহানকে। নিরাপত্তা দিয়েছে তার অধীনস্থ প্রতিটি নাগরিককে। ইসলামের খলিফা ঘোষণা করেছেন, ফুরাতের তীরে কোনো কুকুরও যদি না খেয়ে মারা যায়, তবে এর দায় রাষ্ট্রপ্রধান এড়িয়ে যেতে পারবেন না। তাকে জবাবদিহি করতে হবে। এমন নিরাপত্তার এক দুনিয়া আমরা সকলেই চাই। জাহিলি সমাজ ভেঙে দিয়ে ইসলামের বিপ্লব আনতে চাই। কিন্তু কোন পথে আসবে সেই বিপ্লব? এই বিষয়েই সুচারু কলম ধরেছে সাইয়্যিদ কুতুব রহ.। লেখককে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। মুসলিম বিদ্বানরা তো বটেই, অমুসলিম গবেষকরাও তাঁর কিতাব থেকে আহরণ করেন জ্ঞানের জ্যোতি। তিনি দ্বীনের জন্যে পাড়ি দিয়েছিলেন এক দুর্গম পথ। তাঁর পুরোটা জীবনই ছিল বর্ণাঢ্যময় ঘটনা দিয়ে ভরপুর। অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী তিনি নিজে। তাঁর সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা আর ওহির জ্ঞানের আলোকে তিনি আমাদের দেখিয়েছেন সমাজ বিপ্লবের সঠিক পথ। এই বইটি তাঁর সেই চিন্তাচেতনার মেনিফেস্টো। হিউম্যান বিয়িং শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব বিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল হাসান আলি মিয়া নদভি রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন, বর্তমান আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতা হলো নতুন ইরতিদাদ তথা ইসলাম ত্যাগের দর্শন। নব্য এই ইরতিদাদে আল্লাহকে অস্বীকার করতে হয় না। বাহ্যিক বেশভূষাও পরিবর্তন করতে হয় না। তিনি বলেছিলেন, এই ইরতিদাদ চিন্তাচেতনায় একজন মুসলিমকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। একজন মুসলিম কখনো সরাসরি এই কথা বলতে পারবে না, আল্লাহ এই জিনিসটা হারাম করেছেন, কিন্তু আমি এটাকে হারাম বলে বিশ্বাস করি না। আল্লাহ এই জিনিসটা হালাল করেছেন, কিন্তু আমি এটাকে হালাল মনে করি না। মুসলিম ঘরে জন্ম নেওয়া কারও মুখ দিয়ে এই কথা বের হওয়া দুষ্কর। কিন্তু এই কথার মূল ভাবটাই ইউরোপীয় দর্শনের ফলে একজন মুসলিম অনায়েসে বলে দিচ্ছে। স্বাধীনতা, সমতা ও অধিকারের পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে একজন মুসলিম আল্লাহর কৃত হালালকে হারাম আর হারামকে হালাল বলে দিচ্ছে। বর্তমান জমানায় মুসলিমদের ইরতিদাদের সবচেয়ে বড় কারণ হলো এটি। স্বাধীনতা, সমতা আর অধিকারের পশ্চিমা চোরাবালিতে পড়ে মুসলিম সন্তানরা আজ তাদের ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মুসলিম প্রজন্মের কাছে কুফরের এই ভেল্কিবাজিকে স্পষ্ট করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের সন্তানেরা না বুঝেই কুফরে জড়িয়ে যাচ্ছে। ‘হিউম্যান বিয়িং’ বইটি আমাদের সামনে পশ্চিমা দর্শনের সাথে ইসলামি বিশ্বাস ও সভ্যতার এই সংঘাতকে সুস্পষ্ট করে তুলবে। কুফরের ওপর দাঁড়িয়ে পশ্চিমা সভ্যতার অসার চিন্তাগুলোর ভ্রান্তি উন্মোচন করে দেবে। ইনশাআল্লাহ। অবক্ষয়কাল লুইস ক্যারলের বিখ্যাত বই ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এ কোনো কিছুই স্বাভাবিক নিয়ম মতো হয় না। শুঁয়োপোকা হুক্কা খায়, নুড়ি পাথর কেক হয়ে যায়, আর ছোট্ট শিশু হয়ে যায় শূকরছানা। আজব দেশের রাণী বিচারের সময় চেঁচিয়ে ওঠে, ‘শাস্তি আগে, রায় পরে’! অদ্ভুতুড়ে এক জগৎ! আধুনিকতার রাজপথে হাঁটতে গিয়ে বিশ্ব যেন পথ ভুলে অ্যালিসের ওয়ান্ডারল্যান্ডের মতো কোনো এক জগতে ঢুকে পড়েছে। যেখানে পুরুষ বিয়ে করে অন্য পুরুষকে, নারী বিয়ে করে নারীকে। ছয় বাচ্চার বাপ বর্ষসেরা নারীর খেতাব পায়, নিজেকে নারী দাবি করে মহিলা কারাগারে ঢুকে পড়ে পুরুষ কয়েদী, স্কুলের বাচ্চাদের শেখানো হয় ‘যাহা নারী তাহাই পুরুষ’ আর আইন, আদালত, সমাজ দিব্যি সেটা মেনেও নেয়। প্রতিদিন যেন একটু একটু করে মৃত সাগরপাড়ের শহরগুলোর মতো হয়ে উঠে আমাদের পৃথিবী। অ্যালিসের জগতটা ছিল মজার। কিন্তু আমাদের এ জগৎ ভয়ঙ্কর বিভীষিকার। কেন সবার একযোগে এই অবিশ্বাস্য রকমের পাগলামি? কীভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠলো এতোসব বিকৃতি? অ্যালিসের যাত্রা শুরু হয়েছিল এক সাদা খরগোশের পিছু নিতে গিয়ে। খুঁজতে খুঁজতে তার গর্তে ঢুকে পড়েছিল অ্যালিস। সেই গর্ত তাকে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল আজব এক দুনিয়াতে। প্রশ্নগুলোর জবাব পেতে হলে আমাদেরও নামতে হবে খরগোশের গর্তে। দেখতে হবে এ গর্ত আসলে কতোটা গভীর! হেজেমনি অ্যাট দ্য ক্রসরোডস প্রতিটা সময়ের একটা রং আছে, আলাদা আলাদা আবেদন আছে। সেই রং, সেই আবেদনের মধ্যে দিয়ে একেক সময় আমাদের একেকটা বার্তা দিয়ে যায়। ‘সন্ধিক্ষণের’ রংটা এখানে খুব বেশি আলাদা। এই সময়টায় দাঁড়িয়ে আপনি খুব করে অনুভব করতে থাকবেন, এই বুঝি কিছু একটা হলো। আপনার অনুভবে ধরা পড়বে, বাতাসে কীসের যেন গুঞ্জরণ। কী যেন ঘটে চলেছে চারপাশে। এই অনুভূতিকে শক্তপোক্ত একটা মূর্তমান আকার দিতে হলে ‘হেজেমনি অ্যাট দ্য ক্রসরোডস’ বইটা আপনার পড়ে ফেলা চাই। সুস্পষ্ট সংজ্ঞায়ন, ঝরঝরে বর্ণনা আর টু দ্য পয়েন্ট অ্যানালাইসিসের সমন্বয়ে বইটি আপনার কাছে স্পষ্ট করে তুলবে ‘যুগ সন্ধিক্ষণের’ বৈশ্বিক বাস্তবতা। যে-বাস্তবতার বাইরে নই আমি কিংবা আপনি, মূলত আমরা কেউই। যে-বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আপনি ডুবে থাকতে পারবেন না আপনার সহজিয়া জীবনের ঘোরে। চাইলেও থাকতে পারবেন না যে-বাস্তবতা থেকে দূরে। যে-বাস্তবতার অংশ হওয়া অনিবার্য, তাকে জানবার এত ভালো একটা সুযোগ পায়ে ঠেলে দেয় কোন বোকা? অবাধ্যতার ইতিহাস ‘যতক্ষণ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নিচ্ছ, ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ততক্ষণ তোমাকে সহ্য করা হবে। যা করার সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে করো, কিন্তু কোনোভাবেই সিস্টেমের বিরোধিতা করা যাবে না। প্রশ্ন করা যাবে না কাঠামো নিয়ে, বিশ্বব্যবস্থা আর সাম্রাজ্য নিয়ে। প্রশ্ন করা যাবে না হুবালের কর্তৃত্ব নিয়ে। অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যের যুগে এটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। অপরাধী বলে বিবেচিত হবার জন্য কিছু করার, এমনকি বলারও প্রয়োজন নেই, সিস্টেমের বিরুদ্ধে কোনো চিন্তা থাকাই যথেষ্ট। এসব চিন্তা অবৈধ, এসব চিন্তা অপরাধ। যে শরীয়াহর অনুসরণ কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ মানবজাতির ওপর ফরয করেছেন, যুগের হুবালের বিরুদ্ধে গিয়ে অ্যামেরিকান বিশ্বব্যবস্থার মোকাবেলায় সেই শরীয়াহ বাস্তবায়ন হোক এটা চাওয়া–কিছু করাও না, কিছু বলাও না–শুধু এটা চাওয়া অপরাধ। কিছু করার দরকার নেই, বলার দরকার নেই, চিন্তাটাই অপরাধ। থটক্রাইম। চিন্তাপরাধ।

বইয়ের রেটিং: (0.00/5, 0 রেটিং)
রেটিং দিতে লগইন করুন।