| লেখক | সরদার ফজলুল করিম |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইতিহাস ও ঐতিহ্য |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 192 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
স্মৃতিকথা’; অন্যদিকে অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন কারণে তিনি রহস্যময় ও মিথিক ব্যক্তিতে পরিণত হন। আবার আবদুর রাজ্জাকের রচনা নেই বললেই চলে। যেমন, আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কথোপকথনের আলোকে আহমদ ছফা লিখেছেন যদ্যপি আমার গুরু (১৯৯৮)। রয়েছে হুমায়ুন আজাদের সাক্ষাৎকার (২০১২) ও জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক স্মারকগ্রন্থ (২০১৫)। হুমায়ুন আজাদ চারজন মনীষীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে আবদুর রাজ্জাক একজন। এ গ্রন্থের ভূমিকাংশে চারজন সম্পর্কে আলাদা ধারণা উপস্থাপন করেছেন হুমায়ুন আজাদ। তিনি আবদুর রাজ্জাক সম্পর্কে বলেছেন, ‘জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক আমাদের এই সময়ের সে—অনন্য পুরুষ, যাঁকে ঘিরে কয়েক দশক ধরে জড়ো হয়েছে নানা রহস্য; পরিণত হয়েছেন যিনি জীবিত উপকথা বা কিংবদন্তিতে। ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বহুমুখী পাণ্ডিত্যের নানা গল্প, জীবনের অসংখ্য উপাখ্যান। শারীরিক সৌন্দর্যে দেবতুল্য নন তিনি যে তাঁকে দেখেই দর্শক ভক্ত হয়ে উঠবে; বাগ্মীও নন তিনি যে শ্রোতা তাঁর বাণী আস্বাদ করে স্পর্শ পাবে অমৃতের। মোটা মোটা বই লিখেননি অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, অলংকৃত করেননি জ্যোতির্ময় বিভিন্ন আসন; এমনকি নিজের নামের সঙ্গে তিন অক্ষরের একটি উপাধিও যুক্ত করেননি তিনি। তবু তিনিই হয়ে উঠেছেন আমাদের সাম্প্রতিক জ্ঞানজগতের কিংবদন্তি। এর মূলে আছে সম্ভবত দুটি সহজ কিন্তু অসাধারণ কারণ: প্রাচীন ঋষিদের মতোই তিনি নিজের দীর্ঘ ও সমগ্র জীবন ব্যয় করেছেন জ্ঞান আহরণে এবং ঋষিদের মতোই তিনি অবলীলায় অবহেলা করে গেছেন পার্থিব সাফল্য। জ্ঞানের জন্যে এমন তপস্যা—জীবন সংসার, সাফল্যের কথা ভুলে এখন দুর্লভ ব্যাপার; আর তা—ই রূপ লাভ করতে দেখি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মধ্যে। শুধুই জ্ঞানের জন্যে সব ত্যাগ করে তিনি হয়ে উঠেছেন এই সময়ের জ্ঞানতাপস।’