| লেখক | আল নোমান |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ছড়া , কবিতা ও আবৃত্তি |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 64 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
কবিতা অনেক রকম-এই লত্তিতে পৌঁছলেন জীনানন্দ দাশ। তবে গীতিময় বাংলা কবিতা তার গীতছন্দের ঠাটবাহার গাঁথুনি থেকে যে ক্রমশ বেরিয়ে আসছে, সাক্ষী পাঠক। পাঠকও অনেকরকম। চেলা পাঠক, অচেনা পাঠক। প্রজ্ঞাপাঠক, অন্তরপাঠক। তার অর্থ কি এই নয় যে, কবিও একইরকম নন-প্রত্যেক কবি তাঁর নিজের গন্তব্যে পৌছতে চাচ্ছেন। যদিও গন্তব্য অনেকটা দিগন্তের সতো, আকাশ মাটিতে নামল দূরে, হাঁটতে হাঁটতে এগোনো যায় বটে, দিগন্তও সমানুপাতিকভাবে সেইরকম দূরত্বেই থেকে যায়। এই দৃশ্যমানতার পরেও আমাদের থেমে থাকার তো সুযোগ নেই। নদী লোমে নেই, হাওয়া থেমে নেই, মানুষের অভিব্যক্তি থেমে নেই, অভিপ্রায় থেমে নেই, ভাষা থমকে নেই, কবিতাও আটকে নেই কল্লোল-জাদুঘরে বা বিশশতকের অলিগলি-রাস্তায়। বিবিধ নিরীক্ষার ভেতর দিয়ে বাংলা কবিতা তার বাঁকফেরার নানারকম অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, করছে। ‘দুধকুমার নদীতে একটি শাপলাফুল ফোটে’র পাঠ-অভিজ্ঞতা থেকে দেখি, আল নোমান এখানে এমন কবিতার ডালি সাজিয়ে রাখলেন, যে ভঙ্গিটি অনেকটা মুহূর্ত ধরার মতো। কখনো মনে হতে পারে, একেকটি বাঁকয় একেকটা আলোকচিত্র। কাটা কাটা শট। কথক বটে কবি ‘দুধকুমার নদীতে একটি শাপলাফুল ফোটে’গ্রন্থে, সেই কথন খুব স্বতন্ত্র। পড়তে পড়তে মনে হতে পারে, কোথাও কি এক স্বপ্নময় সুড়ঙ্গের দিকে টেনে নিয়ে যেতে যাচ্ছেন কবি আমাদের। বাস্তবতার টুকরো টুকরো দৃশ্য-বস্তু-ভাবের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে আল নোমান কি আমাদের কোনও পরাবাস্তবতার আবেশে টেনে রাখেন? বাক্যগুলো ছোট ছোট, বাক্যগুলো ফালি ফালি। বাকাগুলো চাকি, বা ভুজালি? কোথাও কি কবিতায় দাড়িচিহ্ন মাস্তানি করছে। তখন সেই বাঁকয় সম্পূর্ণ হলো না বলে পাঠকের খেদ থাকবে? ভয়ানক প্রেম শাসন করছে বাংলা কবিতাকে। আল নোমানকে তো বটেই। প্রচণ্ড এক উন্মাদ প্রেমিক আত্মগোপন করে আছে নোমানের কবিতায়। ‘দুধকুমার নদীতে একটি শাপলাফুল ফোটে’ গ্রন্থেও থৈ থৈ করছে প্রেম, মনোজগতের নানান উথাল-পাথাল জিজ্ঞাসা। কবিতা এই কবির সঙ্গে নিজেকে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে, কবিতা এই কবিকে চন্দ্রমোহের জালে বেঁধে ফেলেছে। ‘দুধকুমার নদীতে একটি শাপলাফুল ফোটে’ পড়তে পড়তে পাঠক হিসেবে আমি তা অনুভব করছি।