প্রথম পরিচ্ছেদ রামতারণ চৌধুরী সকালে উঠিয়া বড় ছেলে নিধুকে বলিলেন, “নিধে, একবার হরি বাগদীর কাছে গিয়ে তাগাদা করে দ্যাখ দিকি। আজ কিছু না আনলে একেবারেই গোলমাল।” নিধুর বয়স পঁচিশ, এবার সে মোক্তারী পরীক্ষা দিয়া আসিয়াছে, সম্ভবত পাশও করিবে। বেশ লম্বা দোহারা গড়ন, রঙ
| লেখক | বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | বেস্ট সেলার বই , সাহিত্য ও উপন্যাস |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Hardcover |
প্রথম পরিচ্ছেদ রামতারণ চৌধুরী সকালে উঠিয়া বড় ছেলে নিধুকে বলিলেন, “নিধে, একবার হরি বাগদীর কাছে গিয়ে তাগাদা করে দ্যাখ দিকি। আজ কিছু না আনলে একেবারেই গোলমাল।” নিধুর বয়স পঁচিশ, এবার সে মোক্তারী পরীক্ষা দিয়া আসিয়াছে, সম্ভবত পাশও করিবে। বেশ লম্বা দোহারা গড়ন, রঙ খুব ফরসা না হলেও তাহাকে এ পর্যন্ত কেউ কালো বলে নাই। নিধু কী একটা কাজ করিতেছিল, বাবার কথায় আসিয়া বলিল, “সে আজ কিছু দিতে পারবে না।” “দিতে পারবে না তো আজ চলবে কী করে? তুমি বাপু একটা উপায় খুঁজে বার করো, আমার মাথায় তো আসচে না।” “কোথায় যাব বলুন না বাবা? একটা উপায় আছে-ও পাড়ার গোঁসাই-খুড়োর বাড়িতে গিয়ে ধার চেয়ে আনি না হয়।” “সেইখানে বাবা আর গিয়ে কাজ নেই-তুমি একবার বিন্দুপিসীর বাড়ি যাও দিকি।” গ্রামের প্রান্তে গোয়ালাপাড়া। বিন্দু গোয়ালিনীর ছোট্ট চালাঘরখানি গোয়ালাপাড়ার একেবারে মাঝখানে। তাহার স্বামী কৃষ্ণ ঘোষ এ গ্রামের মধ্যে একজন অবস্থাপন্ন লোক ছিল। বাড়িতে সাত-আটটা গোলা, পুকুর প্রায় একশোর কাছাকাছি গরু ও মহিষ-কিছু তেজারতি কারবারও ছিল সেই সঙ্গে। দুঃখের মধ্যে ছিল এই যে, কৃষ্ণ ঘোষ নিঃসন্তান। অনেক পূজামানত করিয়াও আসলে কোনো ফল হয় নাই। সকলে বলে স্বামীর মৃত্যুর পরে বিন্দুর হাতে প্রায় হাজার পাঁচেক টাকা পড়িয়া ছিল।