| লেখক | বুদ্ধদেব বসু |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ছড়া , কবিতা ও আবৃত্তি |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 128 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
আসুন। আমার বাগান দেখলেন? সব গোলাপ ফোটেনি এখনো, সবে তো মে মাস পড়লো। আমি সাত রঙের গোলাপ করেছি : দু-রকম হলদে, দু-রকম গোলাপী, দু-রকম লাল। আর শাদা, অবশ্য। আমার হাতের মুঠোর মত বড়ো হয় এক-একটা। ফুলের মধ্যে গোলাপ আমার প্রিয়। কেন জানেন? ওটা বিদেশী, তবু এ-দেশের হ’য়ে গেছে। মোগলরা নিয়ে এলো ভারতে, ইরান থেকে দুনিয়ায় ছড়ালো। গোলাপ : কথাটাই অর্ধেক ফার্শি, অর্ধেক সংস্কৃত। যাকে বলে আন্তর্জাতিক মিলন, তারই একটা নিশেন যেন। আমি আন্তর্জাতিকতায় বিশ্বাসী। না, না, আমার কোনো অসুবিধে নেই, কোনো কাজ নেই—আপনি বসুন, যতক্ষণ ইচ্ছে। আমার এই বাড়ী, বাগান অনেকেই দেখতে আসেন—উট-কামণ্ডের একটা দ্রষ্টব্য হ’য়ে গেছে এটা। ও-পাশের জাপানী বাগানটা দেখেছেন কি? আঁকাবাঁকা ঝিল, চেরি গাছে কুঁড়ি ধরেছে, দু-এক পশলা বৃষ্টি হ’লেই শালুক ফুটবে। অনেকে সূর্যাস্তের সময় বেড়াতে আসে সেখানে। আমি কাউকে বাধা দিই না, আমার এই দুটোমাত্র চোখ দিয়ে কত আর দেখবো, সুন্দর মানেই বহুভোগ্য—তা-ই নয়? আর আমার এখনো এটুকু দুর্বলতা আছে যে অন্যের মুখে প্রশংসা শুনলে ভাল লাগে। কিন্তু যে যা-ই বলুক, এতে অসাধারণত্ব কিছুই নেই, এরকম হাজার হাজার বাগান আছে পৃথিবীতে। আমি তো সাতের পরে অষ্টম রং যোগ করতে পারিনি। জানেন, একবার আমার খেয়াল চেপেছিলো অন্য রঙের গোলাপ করবো। নীল, বা বেগনী, বা কালো—কালোই বা কেন হবে না? জাপান থেকে, হল্যাণ্ড থেকে বিস্তর বই আনিয়েছিলুম। উত্তেজনায় ঘুমোতে পারি না রাত্রে। কাঁপছি, যেন একটা চোরাকুঠুরির চাবি আমার হাতে এসে যাচ্ছে। পৃথিবীতে কালো ফুল নেই কেন? ফুল, ফল, শস্য—যা-কিছু মাটি ফুঁড়ে বেরোয়, তাদের রং কেন রামধনুর সাতটির মধ্যেই বাঁধা প’ড়ে আছে? শাদা, যাতে সব রং মিলে-মিশে আছে, ফুলেদের মধ্যে তাও পাওয়া যায়, কিন্তু কালো—যাতে সব রং লুপ্ত, তা কেন নেই? সত্যি কি নেই, না কি আমরা এখনো খুঁজে পাইনি? সে কি হবে না ভগবানের চেয়েও বড়ো, যার হাতে প্রথম ফুটবে কালো গোলাপ? সে যদি আমিই হই?…আপনি ভয় পাবেন না, আমি পাগল হ’য়ে যাইনি, যখন আমি নীল গোলাপের স্বপ্ন দেখছি তখনই আমি জানি ওটা হবার নয়। একরকমের খেলা আরকি নিজের সঙ্গে, সময় কাটানো—সামথিং ইন্টরেস্টিং টু ডু, দ্যাট’স অল।