Whatsapp: +8801567808596

  |  

Track Order

জ্বীন শয়তান এবং ইবনে আরাবির জিজ্ঞেসা

জ্বীন শয়তান এবং ইবনে আরাবির জিজ্ঞেসা

৳600
৳420
ইসলামি বিশ্বাস ও সুফি দর্শন অনুযায়ী—আপনার জন্মের ঠিক সেই মুহূর্তটিতেই একজন অদৃশ্য যমজ বা ‘ছায়াসঙ্গী’-র জন্ম হয়েছে? এই সঙ্গীর নাম ‘কারিন’ (Qarīn)। সে আপনার সাথে ছায়ার মতো লেগে থাকে, আপনার ধমনীতে রক্তের মতো প্রবাহিত হয় এবং প্রতিনিয়ত আপনার কানে ফিসফিস
  লেখক   কাজী ম্যাক
  প্রকাশনী

 বইপিয়ন প্রকাশনী

  সংস্করণ   May 22, 2026
  catagory  ইসলামি বই
  Language   বাংলা
  Number of Pages   224
  Cover Type   হার্ড কভার

ইসলামি বিশ্বাস ও সুফি দর্শন অনুযায়ী—আপনার জন্মের ঠিক সেই মুহূর্তটিতেই একজন অদৃশ্য যমজ বা ‘ছায়াসঙ্গী’-র জন্ম হয়েছে? এই সঙ্গীর নাম ‘কারিন’ (Qarīn)। সে আপনার সাথে ছায়ার মতো লেগে থাকে, আপনার ধমনীতে রক্তের মতো প্রবাহিত হয় এবং প্রতিনিয়ত আপনার কানে ফিসফিস করে কুমন্ত্রণা দেয়। এই বইটি নিছক জিন-ভূতের গল্প নয়; এটি মহান সুফি সাধক মুহিউদ্দিন ইবনে আরাবীর দর্শনের আলোকে মানুষের এই ‘বাতেনি শয়তান’ বা কারিন-এর এক গভীর ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। বইটির মূল আলোচ্য বিষয়গুলো হলো: ১.কারিন কে? বইটিতে দেখানো হয়েছে যে, জিন কেবল মরুভূমির কোনো দানব নয়। ইবনে আরাবী ও ইসলামি প্রথাগত বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘কারিন’ হলো মানুষের আত্মিক প্রতিরূপ বা ডপেলগ্যাঞ্জার (Doppelganger)। লোককথায় বা কুসংস্কারে একে ‘কারিনা’ বা শিশু হত্যাকারী পিশাচিনী হিসেবে ভয় পাওয়া হলেও, সুফিবাদে একে দেখা হয় মানুষের আধ্যাত্মিক পরীক্ষার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে। প্রতিটি মানুষের সাথে একটি করে শয়তান বা কারিন জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যার কাজ হলো মানুষকে পথভ্রষ্ট করা। ২. জিনদের রহস্যময় জগত জিন জাতির প্রকৃতি ও বৈচিত্র্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে । জিনরা আগুনের তৈরি হলেও, তাদের সমাজ মানুষের মতোই—তাদেরও রাজা, ধর্ম এবং সমাজব্যবস্থা আছে। বইটিতে জিনের বিভিন্ন ভয়ংকর ও অদ্ভুত উপপ্রজাতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে: ঘোল (Ghoul): যারা রূপ বদলে ভ্রমণকারীদের ধোঁকা দেয়। নাসনাস (Nasnās): এক চোখ ও এক পা বিশিষ্ট অদ্ভুত জীব। সি’লাহ (Si’lah): যারা মানুষকে নাচতে বাধ্য করে। দালহাত (Dalhāth): যারা উটপাখির পিঠে চড়ে বেড়ায়। তবে এদের সবার চেয়ে আলাদা হলো ‘কারিন’, কারণ কারিনের শত্রুতা কেবল তার নিজের মানুষের সাথেই। আরো অনেক- ৩. এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বইটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো জিন ও মানুষের মনস্তত্ত্বের সম্পর্ক। ইবনে আরাবীর মতে, কারিন আমাদের ‘নফসে আম্মারা’ বা কুপ্রবৃত্তির ওপর ভর করে কাজ করে। সে আমাদের মনে সন্দেহ, ক্রোধ, লোভ এবং হতাশার বীজ বুনে দেয়। সে আক্রমণ করে চারদিক থেকে কখনও ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি করতে উসকানি দেয়, আবার কখনও বা পাপের সাগরে ভাসিয়ে দিতে চায়। এটি বাইরের কোনো শত্রু নয়, বরং আমাদের সিনাহ ভেতরের এক নীরব ঘাতক। ৪.মুক্তির উপায় কারিনের হাত থেকে বাঁচার উপায় কী? সাধারণ জাদুকররা যেখানে তাবিজ-কবজ বা ঝাড়ফুঁক দিয়ে জিন তাড়াতে চায়, ইবনে আরাবী সেখানে ভিন্ন পথের কথা বলেছেন। তাঁর মতে, কারিনকে হত্যা করা বা তাড়ানো সম্ভব নয়, কারণ আল্লাহই তাকে আপনার সাথে জুড়ে দিয়েছেন। মুক্তির একমাত্র উপায় হলো কঠোর আত্মশুদ্ধি। এর অর্থ হলো নিজের কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা এবং নিজের আচরণের মাধ্যমে কারিনকে প্রভাবিত করা। একজন সাধক যখন নিজেকে পরিশুদ্ধ করেন, তখন তাঁর কারিনও বশীভূত হয়ে যায়, এমনকি সে ইসলাম ধর্মও গ্রহণ করতে পারে (যেমনটি: নবীজির ক্ষেত্রে হয়েছিল)। ইবনে আরাবী শিখিয়েছেন যে, অশুভ বা মন্দ মূলত মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য এবং তাকে আধ্যাত্মিকভাবে ওপরে তোলার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। এই বইটি পাঠককে এক রোমাঞ্চকর যাত্রায় নিয়ে যায় যেখানে প্রাচীন আরবের লোককথা, ইসলামি ধর্মতত্ত্ব এবং ইবনে আরাবীর গূঢ় সুফি দর্শন একাকার হয়ে গেছে। এটি আমাদের শেখায় যে, মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি বাইরের কোনো দানবের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজের ভেতরের সেই অদৃশ্য সঙ্গীর বিরুদ্ধে যাকে জয় করতে পারলেই মানুষ ‘পরিপূর্ণ মানুষ’ (Insān Kāmil)-এ পরিণত হতে পারে।

বইয়ের রেটিং: (0.00/5, 0 রেটিং)
রেটিং দিতে লগইন করুন।