| লেখক | লতিফুল ইসলাম শিবলী |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | সাহিত্য ও উপন্যাস |
| Language | : বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
আসমান আমেরিকার কুখ্যাত কারাগার গুয়ানতানামো বে থেকে বিনা বিচারে ১২ বছর জেল খেটে মুক্তি পেয়েছে এক বাংলাদেশি। ওয়াশিংটন পোস্টের এই খবরে চমকে গেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে এমন সন্ত্রাসীর দায়িত্ব নেবে না বাংলাদেশ। আমেরিকান আর্মির কার্গো প্লেন তাকে ফেলে গেছে আলবেনিয়ার তিরানা বিমান বন্দরে। ট্রাভেল ডকুমেন্টহীন, দেশহীন মানুষটাকে পৃথিবীর কোনো দেশ রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় না। রিফিউজির স্ট্যাটাস নিয়ে তাকে থাকতে হবে রেডক্রসের শেল্টারে। মানুষটা এখন কোথায় যাবে? চেনা সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলে, একটা অচেনা দরজা খুলে যায়। জীবন বন্দি হয়ে গেলে, সেটা জীবনকেও ছাপিয়ে যায়। সেই জীবনের গল্প জীবনের চেয়েও বড় হয়ে যায়… The Fiction Based on Fact এই উপন্যাসের স্থান সত্য, কাল সত্য, ইতিহাস সত্য, কাল্পনিক শুধু এর চরিত্রগুলো। অন্তিম একজন মাসিহ, ত্রাণকর্তা বা নেতাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পৃথিবী। বেইনসাফ আর জুলুমপূর্ণ পৃথিবীর শেষ সময়ে তাঁর নেতৃত্বে ঘটবে শেষ মহাযুদ্ধ! প্রধান সব ধর্মগ্রন্থগুলোর ভবিষ্যদ্বাণীতে সেই মহাযুদ্ধকে বলা হয়েছে—মালহামা, মহাপ্রলয়, আরমাগেডন । সত্য-মিথ্যার মাঝে শেষ মীমাংসা-ফায়সালা হয়ে যাবে এই যুদ্ধে । মাসিহ আসবেন—তাই আগামী পৃথিবীর শাসন কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে রাখার জন্য আবর্তিত হচ্ছে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। শুভ এবং অশুভ শক্তির মাঝে প্রাধান্য বিস্তারের গোপন লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে পৃথিবীর প্রতিটি দেশ। প্রকাশ্য যুদ্ধের আগে এখন এই গোপন যুদ্ধটাই—The beginning of the End. সেই গোপন যুদ্ধের খবরটা জেনে যায় এই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকার এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তাঁর পত্রিকা সেই রিপোর্টটা ছাপেনি। উপরন্তু এক রহস্যময় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। তদন্তে নেমে এক পুলিশ অফিসার জানতে পারে এক ভয়ংকর—সত্য । সেটা এমন সত্য, যে জানে, সে ডেকে আনে তার নিজের মৃত্যু। The fiction based on fact. নূর এক কুৎসিত চেহারার মানুষকে এক বিদুষী নারী বলেছিল—‘আপনি হলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষ।’ এই একটি বাক্যেই বদলে গেছে তার জীবন। সে ছিল এমন পুরুষ, যার সৌন্দর্য দেখার জন্য থাকতে হয় অন্তরের চোখ। একমাত্র সে নারীরই ছিল সেই চোখ। তারপর, জমিদারের বিলাসী জীবন থেকে সে লোকটি নেমে এসেছিল সাধারণ মানুষের কাতারে। ভালোবাসা তাকে দিয়েছিল বিদ্রোহের শক্তি। এটা সেই সময়ের ঘটনা, যখন পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হয়েছেন, আর সুবে বাংলা ও বিহার দখল করে নিয়েছে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ইতিহাসে এই অংশটুকু লেখা হয় অনেক বড় করে। কিন্তু যে অংশটার কথা সবাই বিস্মৃত সেটা হলো—পলাশীপরবর্তী তিন দশক নবাবের চাকরিচ্যুত সৈন্য, সাধারণ কৃষক, মুসলিম সাধক ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে সংগঠিত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন এক মহান সুফি সাধক, তাঁর নাম—ফকির মজনু শাহ। শেষ যুদ্ধে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন, কিন্তু উত্তরপুরুষের জন্য রেখে গেছেন ইনসাফের পক্ষে জালিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এক অভূতপূর্ব সাহসের উদাহরণ। ‘নূর’ The Fiction Based on Fact. ফ্রন্টলাইন আন্দামান সমুদ্রে নিজ হাতে মায়ের মৃতদেহ ছুড়ে ফেলতে হয়েছিল তাকে। নীল জলে কালো বোরকায় ঢাকা কাফনে মোড়ানো মায়ের সাথে সাথে ডুবে গিয়েছিল তার জাগতিক সব ‘ভয়’ ও ‘আকাক্ষা’। মানুষ যা হারায়, ফিরে পায় তার চেয়েও বেশি। সবার অজান্তে তাকদির তাকে তুলে নিয়েছিল তার জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য । সেই নেতৃত্ব তাকে পৌঁছে দিয়েছিল, অনিন্দ্যসুন্দর এক: ফ্রন্টলাইনে… The fiction based on fact দখল ভালোবাসার জন্য এক কোমল হৃদয় প্রেমিক হয়েছিল খুনি, আর এক নিষ্ঠুর খুনি হয়েছিল ক্ষমাশীল। একটা হৃদয় দখলের জন্য দুই প্রেমিকের এই যুদ্ধটা ছড়িয়ে পড়েছিল সারা শহরে… শহরটার নাম ঢাকা, যে শহরকে আমরা চিনি না। এই শহরেই আছে আন্ডারওয়ার্ল্ড নামের অচেনা মানুষদের এক অন্ধকার পৃথিবী… রাষ্ট্রের মতো এদেরও আছে নাগরিকদের উপর গোপন নিয়ন্ত্রণ, আর ক্ষমতার পালাবদল। অন্ধকার ঢাকার অর্গানাইজড ক্রিমিনালদের ক্ষমতা দখলের রক্ত হিম করা গোপন যুদ্ধের সাথে এবার জড়িয়ে গেছে হৃদয় দখলের যুদ্ধটা… দখল—The Fiction based on Fact. দারবিশ ষাট থেকে আশি, এই তিন দশকে হতাশাগ্রস্থ আমেরিকান তরুণ তরুণীদের আশ্রয়স্থল ছিল তিনটি নিষিদ্ধ শব্দ- ‘সেক্স ড্রাগস অ্যান্ড রক এন রোল’। যখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ আর শীতল যুদ্ধে অস্থির টালমাটাল আমেরিকা। সেই সময়ে অভিমানী এক তরুণ ঢাকা থেকে চলে গিয়েছিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে ডাক্তারি পড়তে। এটা সেই সানফ্রান্সিসকো যাকে বলা হত ‘কাউন্টার কালচার’ বা হিপ্পি আন্দোলনের রাজধানী। সহপাঠীদের সাথে ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী শান্তি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে করতেই সে দেখে ফেলেছিল পুঁজিবাদের গভীর সংকট আর বীভৎস রক্তাক্ত ক্ষতগুলো। দুই আদর্শবাদের ধারক দুই পরাশক্তির লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে বের হয়ে আসা অন্ধকার রাজনীতি সেই তরুণকে পরিণত করেছিল এক বিশ্বনাগরিকে। ৬০ মিলিয়ন লম্বা চুলের হিপ্পি যখন আমেরিকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে, যখন আমেরিকার ঘরে যুদ্ধ, বাইরে যুদ্ধ, ঠিক তখন ছেলেটির জীবনে প্রেম হয়ে আসে মেলিনি নামের প্রখর রাজনীতি সচেতন দেশপ্রেমিক এক আমেরিকান নারী। যাকে রাশিয়ান স্পাই মনে করে হন্যে হয়ে খুঁজছে এফবিআই। এরপর শুরু হল তাদের পলাতক জীবন। মেলিনিকে নিয়ে টেক্সাস থেকে বর্ডার ক্রস করে মেক্সিকো ঢোকার সময় ছেলেটির জীবনে ঘটে এক চরম বিপর্যয়। ৭০বছর বয়সে সেই তরুণ ফিরে আসে তার ফেলে যাওয়া সেই রোমান্টিক ঢাকায়, যাকে সে ভালোবেসে নাম দিয়েছিল- সিটি অফ মিউজিক। পরিচয় হয় এক তরুণীর সাথে, যে তরুণীর মননশীলতা তৈরি হয়েছিল সেই ষাট সত্তর আর আশি দশকের- এলভিস প্রেসলী, বিটলস, বব ডিলান, জিমি হ্যান্ড্রিক্স, জিম মরিসন, লেড জেপলিন, পিঙ্ক ফ্লয়েড, ইউ-টু আর নির্ভানা শুনে শুনে। মেয়েটি অদ্ভুত ভাবে লোকটির ৩০ বছর বয়সের সেই লম্বা চুলের হিপ্পির প্রেমে পরে যায়। সমস্যাটা শুরু হয় তখনই… The fiction based on fact. রাখাল সতীদাহের চিতা থেকে পালিয়ে যাওয়া এক নারীর মর্মন্তদ কাহিনী–রাখাল। যাকে তার পরিবারের লোকেরা যে কোনো মূল্যে আবার চিতায় তুলতে চায়। জীবন বাঁচাতে মেয়েটি পালিয়ে থাকে সুউচ্চ পাহাড়ের খাঁজে, ঈগলের বাসায়। সেখান থেকে সে দেখে ফেলে এক অনিন্দ্য সুন্দর পৃথিবীকে। তাকে লুকিয়ে রাখে যে মুসলিম রাখাল, তাঁর দিকে তাকিয়ে হিন্দু মেয়েটির মনে হয়েছিল, এ রাখাল নয়, রাখালের ছদ্মবেশে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। আশ্চর্যজনক ভাবে দুই বিশ্বাসের দুটি মানুষের প্রেমানুভূতি মিলেছে এক মহান ঐশী আধ্যাত্মবাদে।< ঘটনাটা যখন ঘটছে, ভারতবর্ষ তখন মহর্ষি রাজা রামমোহন রায়ের হিন্দুধর্ম সংস্কার আন্দোলনে টালমাটাল। বর্ণবাদী হিন্দুরা নৃশংস সতীদাহ প্রথাকে যেকোন মূল্যে বহাল রাখতে চায়। মেয়েটিকে ধরে এনে আবার তোলা হয়েছিলো চিতায়… গল্পটি ভারতবর্ষের সর্বশেষ সতীর জীবনের গল্প। এই উপন্যাসের স্থান সত্য, কাল সত্য, ইতিহাস সত্য, শুধু কিছু কিছু চরিত্র কাল্পনিক। ইমাম গভীর অন্ধকার রাতে সাগরে ডুবে মরার সময় বাঁচার জন্য একটা প্রমিজ করেছিলো তুমুল জনপ্রিয় এক রকস্টার। বেঁচে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্ত থেকে বদলে যায় তার জীবন, নিজেকে তার মৃত মনে হয়। সে জানে না, এখন কীভাবে রক্ষা করবে তার প্রতিজ্ঞা। সেটা জানার জন্য সে পথে নামে। পথ খোঁজার জন্য যারা পথে নামে, তারা আসলে পথ তৈরি করে। আর বাকিরা সেটা অনুসরণ করে। তাই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ পাঠশালার নাম— ভ্রমণ। ভ্রমণের মধ্যেই সে খুঁজে পায় একজন ইমামকে। তিনি তাকে জানিয়েছিলেন কীভাবে পূরণ করতে হয় প্রতিজ্ঞা। আর জানিয়েছিলেন— ভঙ্গুর জীবনে বিচ্ছেদই সত্য। The fiction based on fact.