| লেখক | ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া, আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহঃ) |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
নজরের হেফাজত করুন, নিরাপদ থাকুন চোখ—মানুষের আত্মার জানালা। এই জানালা দিয়েই হৃদয়ে প্রবেশ করে ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার। কিন্তু যদি এই জানালাটি অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তাহলে ভেতরের আলো নিভে যায়, অন্তর ঢেকে যায় অন্ধকারে। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—চোখ কেবল দেখার অঙ্গ নয়; এটি এক দায়িত্বশীল দৃষ্টি, যা সত্য ও পবিত্রতার সাক্ষী বহন করে। চোখের হেফাজত মানে শুধু পাপ থেকে বিরত থাকা নয়; বরং প্রতিটি দৃষ্টিকে উদ্দেশ্যমূলক করা, প্রতিটি দৃষ্টি থেকে নৈতিকতা আহরণ করা, এবং প্রতিটি সৌন্দর্যে আল্লাহর মহিমা চিনে নেওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—‘চোখের জিনা হলো (অবৈধ) দৃষ্টি।’ এই গ্রন্থ সেই দৃষ্টিকে পরিশুদ্ধ করার, হৃদয়কে স্বচ্ছ করার এবং জীবনের প্রতিটি দৃশ্যকে ঈমানের আলোয় দেখার এক আমন্ত্রণ। মানুষের সাথে থাকা ফেরেশতা যেমন আহ্বান জানায় ভালোতে, তেমনি শয়তান টেনে নেয় মন্দে। আর কুদৃষ্টি হলো তার সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র—এক অব্যর্থ ফাঁদ, যা দিয়ে সে মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বহু মহান মানুষও এই দৃষ্টির ফাঁদে পড়ে পথ হারিয়েছেন। তাই কুরআন ও হাদিসে এসেছে দৃষ্টি সংযমের প্রতি কঠিন সতর্কবার্তা। এই গ্রন্থে কুদৃষ্টির ভয়াবহতা, তার ক্ষতিকর প্রভাব এবং এ থেকে বাঁচার কার্যকর উপায়গুলো তুলে ধরা হয়েছে স্পষ্ট, তথ্যপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায়। নগ্নতার এই মহামারীর যুগে, ‘নজরের হেফাজত করুন’ শুধু একটি বই নয়—এটি এক আত্মরক্ষার ঢাল, এক আত্মশুদ্ধির পথ এবং এক নৈতিক বিপ্লবের সূচনা। কেননা, শুচি দৃষ্টি থেকেই শুরু হয় শুচি জীবন। প্রবৃত্তির নিন্দাচার মানুষের মাঝে আল্লাহ তাআলা একটি চালিকাশক্তি দিয়েছেন, যার নাম হলো মন। আর এই মনের মাঝে রয়েছে প্রবৃত্তি বা আবেগ, যার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে মানুষ নিজেকে বিপদে পতিত করে। অতএব, মন আর প্রবৃত্তিহীন যেমন কোনো মানুষ পাওয়া যায় না, তেমনইভাবে চাহিদাহীন কোনো প্রবৃত্তিও কারও মাঝে থাকতে পারে না। আর এই চাহিদা পূরণেই বাঁধে সব বিপত্তি। জীবনের গাইডলাইনহীন মানুষ শুধু দিগ্ভ্রান্ত ব্যক্তির মতো নিজের চাহিদা পূরণের জন্য লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ তাআলা নবী দাউদ আলাইহিস সালামকে লক্ষ করে বলেন : “তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, তাহলে এই প্রবৃত্তি তোমাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা হিসাবনিকাশের দিবস ভুলে গিয়ে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হবে, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” মোটকথা, মানুষ মানেই তার মাঝে তাড়নাপ্রবণ একটি প্রবৃত্তি রয়েছে। আর সেই প্রবৃত্তি ভালো-মন্দ উভয় পথেই পরিচালিত হয়। তবে মানুষের হাতেই থাকে এর নিয়ন্ত্রণ। যেমন, আমাদের মাঝে প্রচলন আছে, ‘মানুষ অভ্যাসের দাস। কিন্তু কথাটি যদি এভাবে বলি তাওবার গল্প আমাদের পূর্বসূরীগণ সবচেয়ে বেশি যে আমলটি করতেন, সেটি হচ্ছে তাওবা-ইস্তিগফার। তাদের জিহ্বা সবসময় তাওবা-ইস্তিগফারে সিক্ত থাকত। আর এই শিক্ষা স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কাছ থেকেই তারা পেয়েছেন। হাদীসে এসেছে নবীজি দৈনিক একশত বার ইস্তিগফার করেছেন। অথচ উনার আগের পরের সকল পাপ আল্লাহ্ মাফ করে দিয়েছেন। তাহলে আমাদের কতখানি তাওবা করা প্রয়োজন? . ইমাম ইবনু কুদামা মাকদিসি (রহ.) ‘তাওবার গল্প’ বইটি মূলত আমাদের মতো গাফেল বান্দাদের জন্যই লিখেছেন। এতে তিনি পূর্বসূরিদের তাওবার গল্প জমা করেছেন। তারা কীভাবে তাওবাহ করতেন, কোন জিনিস তাদেরকে আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনল, তাওবাহ নিয়ে এরকম হৃদয়গ্রাহী অনেক ঘটনার মিলবে এই বইতে। এই গল্পগুলো আমাদের ভিতর তাওবার আগ্রহ তৈরিতে বেশ সহায়ক। এছাড়া তাওবা কী, তাওবা কখন, কীভাবে, ইত্যাদি হুকুম আহকাম আলোচনা করা হয়েছে সবিস্তারে। যেভাবে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো গুনাহ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। হরহামেশা আমাদের দ্বারা গুনাহ হয়। কিন্তু এর চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, গুনাহ করতে করতে একসময় যখন আমরা অপরাধবোধ হারিয়ে ফেলি। তখন তাওবা তো করিই না, উল্টো কেউ শুধরাতে এলে তাকে বকাঝকা করি। . এজন্য গুনাহের ভয়াবহতা জানা দরকার। গুনাহের কারণে নেমে আসা বালা-মুসিবতগুলো কী কী—মাঝে মাঝেই নিজেকে স্মরণ করিয়ে দেয়া জরুরী। তাহলে অপরাধবোধ কাজ করবে। তাওবার দিকে মন ঝুঁকবে। ‘যেভাবে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো’ এই বিষয়গুলোই আলোচনা করেছেন। গুনাহের ক্ষতি, গুনাহের কারণে কী কী বিপদ আপদে বান্দা পড়ে, কীভাবে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়—ইত্যাদি বিষয় এতে রয়েছে। যারা গুনাহমুক্ত একটি জীবন গড়তে চান, তাদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। মুখের উপর লাগাম দিন মানুষকে আল্লাহ তাআলা অনন্য সৃষ্টিকুশলতার মিশ্রণে সৃষ্টি করেছেন। তিনশত ষাট জোড়া হাড়ের ওপর ত্বক ও রক্ত-মাংসের যে প্রলেপ দিয়ে তিনি এই মানবদেহ গঠন করেছেন, সেই মানবদেহটি একটি অপূর্ব বিস্ময়ের সমষ্টি। দেহের এই সমষ্টি গঠিত হয়েছে অপরূপ কিছু অঙ্গসৌষ্ঠবের নান্দনিক মিলনে। আর এই সুন্দর সুনিপুণ মানবদেহের সবচেয়ে অপরিহার্য অঙ্গটি হলো মানুষের মুখ ও তন্মধ্যকার রসনা। মুখের ব্যবহার বহুবিধ। রসনা-সিক্ত মানুষের ভাষাই সৃষ্টিকুলের মধ্যে মানবজাতিকে করেছে সম্পূর্ণ আলাদা, বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও আভিজাতের অধিকারী। পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে বহুগুণ শক্তিধর অনেক প্রাণী আছে, কিন্তু তাদের ভাষাশৈলী নেই বলে মানুষের কাছে তারা পদানত। মানুষ তার ভাষার জোরেই করেছে জগত জয়, অন্য সৃষ্টিকে করেছে পদানত। ভাষার কল্যাণেই মানুষ হয়েছে বিভক্ত নানা গোত্রে, নানা রাষ্ট্রে এবং নানা প্রাসাঙ্গিক বিভাজনে। ভাষার কল্যাণেই বহু মানুষ হয়েছে স্রষ্টার নাফরমান, ইবলিশ ও ফেরাউনের মতো ঔদ্ধ্যত এবং কিছু মানুষ ভাষার বিনম্র সতত ব্যবহারে স্রষ্টার অস্তিত্ব স্বীকার করে হয়েছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। ভাষা মানুষকে মানষত্বের পরিচয় এনে দিলেও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছে এর সদ্ব্যবহারে। তাই কোরআন-হাদিসে ভাষা ও রসনার সংযমী ব্যবহারের গুরুত্ব এসেছে। পরকালে মানুষের অসংযত ভাষার ব্যবহারই তাকে অধোঃমুখো করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবে বলে হুঁশিয়ারী এসেছে। পরকালবিশ্বাসী মানুষের প্রধানতম দায়িত্ব হলো ভাষার সংযম ও মুখের ওপর লাগাম টেনে দেয়া। এই বিষয়ে হাদিসে অনেক তাগাদা এসেছে। সালফে সালেহিনগণ এর গুরুত্বের বিবরণ দিয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। তাঁদের অন্যতম হলেন ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া রহ., যিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস এবং সমাজনির্মাতা। সমাজের অধঃপতনের কারণগুলো চিহ্নিত করে তিনি যেসব অমর গ্রন্থ জাতিকে উপহার দিয়ে গেছেন তার অন্যতম হলো الصمت وآداب اللسا ‘মুখের ওপর লাগাম দিন’ নামের অনন্য অসাধারণ গ্রন্থটি। গ্রন্থটির অনূদিতরূপকে পাঠকের টেবিলে তুলে দিচ্ছি। বইটি আশা করি পাঠকহৃদয়কে আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।