| লেখক | ড. সালমান আল আওদাহ, আরিফুল ইসলাম |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
উত্তরসূরি উত্তরসূরি। আধুনিক শিক্ষিত যুবক আনাস উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। ‘নলেজ’ আর ‘স্কলার’ শব্দগুলো শোনামাত্র তার মানসপটে ভেসে ওঠে পাশ্চাত্য সভ্যতার জ্ঞানার্জনের ধারা। কেননা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে জ্ঞানী-গুণী বলতে সে শুধু পাশ্চাত্যের জ্ঞানীদের চিনেছে। তাকে যদি বলা হয়, দশজন জ্ঞানী ব্যক্তির নাম লেখো। সে কখনো সেই তালিকায় ইমাম আবু হানিফা, ইমাম বুখারী, ইমাম গাজালী, ইমাম ইবনে তাইমিয়াকে রাখবে না। কারণ, তাঁদের সাথে তার ‘পরিচয়’ নেই। এমন না যে, সে অজ্ঞেয়বাদী বা নাস্তিক। আনাস চরিত্রটি আমাদের আশেপাশের আট-দশজন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণের প্রতিনিধি। উপন্যাসের সেই আনাস কোনো এক কারণে একে একে পরিচিত হতে থাকে মুসলিম সভ্যতার লিজেন্ডদের সাথে। এমন এক ইতিহাসের সাথে পরিচয় হয়, যে ইতিহাস এতদিন তার কাছে চেপে রাখা হয়েছিল। আনাস সেইসব ইতিহাস জেনে অবাক হতে থাকে। সে দেখে, নবীজি (সা.) যাদেরকে তাঁর ‘উত্তরসূরি’ বলেছেন, তারা সেই উত্তরসূরি হওয়াকে টেকেন ফর গ্রান্টেড হিশেবে নেননি। দিন-রাত মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন৷ অজস্র রাত নির্ঘুম কাটিয়েছেন। রচনা করেছেন এমন এক ইতিহাস, যা কখনো ভোলার নয়। চলুন, আনাসের হাত ধরে আমরাও সেই লিজেন্ডদের সাথে পরিচিত হই। ইসলামের চার নক্ষত্র: চার ইমাম মাআল আইম্মাহ। বাংলায় বললে, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর সাথে। আমরা অনেকে চার ইমাম বলতে চারটি মতাদর্শ বুঝি। মনে করি, চার ইমাম চার দলের প্রবর্তক। প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতের ওপর অবিচল। সত্যিই কি তাই? আমাদের মহান ইমামগণ কি এই উদ্দেশ্যেই ফিকহ চর্চা শুরু করেছিলেন? উম্মতকে নানান দলে বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে? ইমামগণের প্রধান অনুসারীগণ কি এভাবে বিভেদ-বিদ্বেষ ছড়িয়ে বেড়াতেন? আসলে উম্মাহ যে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আহমাদ (রহ.)-গণের ব্যাপারে একমত হয়েছে, এটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার নয়। আবার তাদেরকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের সংখ্যাও ইতিহাসে নেহায়েত কম নয়। এজন্য ইলমে-দ্বীন চর্চাকারী মাত্রই আমাদের সবার দায়িত্ব মহান ইমামগণের জীবন-কর্ম জানা। তাদের রেখে যাওয়া খেদমত, অনুসৃত মূলনীতি সম্পর্কে জানা অর্থ ইসলামের শিক্ষাকেই জানা। তাদের জীবনাদর্শ, আদব আখলাকের মাঝে আমাদের জন্য যে অকৃত্রিম শিক্ষা রয়েছে, সকলের জন্য অনুসরণীয়। এই বিষয়ে চমৎকার একটি বই ড. সালমান আল আওদাহ (হাফি.) রচিত ‘মাআল আইম্মাহ’। এতে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমাদ—এই চার ইমামের জন্ম মৃত্যু থেকে শুরু করে তাদের কর্মপন্থা, জীবনের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা আমাদের জন্য অনুপম শিক্ষা এবং মণিমুক্তাগুলো একত্র করা হয়েছে। চার ইমামের জীবনাদর্শের ওপর সম্ভবত এই প্রথম এমন একটি গবেষণা-ধর্মী বই প্রকাশিত হলো, যেখানে তাদের জীবন কর্মের পাশাপাশি তাদেরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভিন্ন মিথ্যাচার-অভিযোগ-আপত্তির খণ্ডন করা হয়েছে।