| লেখক | জিম তানভীর, ড. আদহাম আশ শারকাবি |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
অনলি ফর ম্যান: আল্লাহ তায়ালা পারতেন, হাওয়া আ.-কে ভিন্ন মাটি দিয়ে তৈরি করতে, যেভাবে হযরত আদম আ.-কে তৈরি করেছিলেন। সেটা না করে আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আ.-এর পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়া আ.-কে সৃষ্টি করেছেন। যেন আদম বুঝতে পারেন যে, হাওয়া তার দেহেরই একটি অংশ। যেন নিজের দেহের মতো হাওয়াকে যত্ন করতে পারেন! যেন হাওয়া বুঝতে পারেন যে, আদম-ই তার আসল। যেন হযরত আদমের প্রতি তিনি টান অনুভব করেন, যেভাবে স্বদেশের প্রতি টান অনুভব করে দূর-পরবাসী কেউ। স্বামী স্ত্রীর মাঝে চিরদিন ভালোবাসা অটুট রাখার জন্য এটা স্রষ্টা নির্ধারিত সুনিপুণ পন্থা। তবে জীবনের জন্য শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়… প্রতিটি স্বামীকে বুঝতে হবে, স্ত্রী কিভাবে চিন্তা করে, কী অনুভব করে, কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়! নারী-পুরুষের মাঝে মিল রয়েছে। এ মিলের কারণ সৃষ্টি রহস্য। নারী-পুরুষ উভয়কে একজন মানুষ থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। নারী-পুরুষের মাঝে ভিন্নতা রয়েছে। এ ভিন্নতার কারণও সৃষ্টি রহস্য। উভয়কে কিছু ভিন্নতা দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। সুখময় জীবনের জন্য এ ভিন্নতা বা পার্থক্যগুলোকে উপলব্ধি করা, একে বিবেচনায় নেয়া ও এর প্রতি দৃষ্টিপাত করা জরুরি। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার এ ভিন্নতা ত্রুটি নয়, বরং এটা জীবন ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণতা। এ গ্রন্থটি শুধু পুরুষের জন্য রচিত… তবে নারী-পুরুষের স্বভাবগত ভিন্নতার ব্যাখ্যাও এখানে দেয়া হয়েছে সুনিপুণভাবে। মুহসিনীন (উত্তম পুরুষদের পাঠশালায়): পুরুষ, এক যোদ্ধার নাম। শৈশব থেকে তার যুদ্ধ শুরু; সমাজের সাথে, ভ্রান্তির বিপক্ষে। মাঝে মাঝে যুদ্ধ চলে নিজের সাথেও। তবু হিংস্র চেহারার অগোচরে লুকিয়ে থাকে কোমলতা যা খুবই টের পাওয়া যায়। পুরুষ তো আত্মভোলা, নিজেকে সে ভুলে থাকে। নিজেকে ক্ষয় করে গড়ে তোলে পরিবার, সমাজ ও জাতি। পুরুষদের অন্তর গভীর সমুদ্রের মতো। সকল কষ্ট লুকিয়ে থাকে বুকের গহিনে, আঁধারে। মুখ ফুটে বলে না কখনো। জীবনটা বিলিয়ে দিতেই যেন পুরুষের জন্ম। দ্বীন পুরুষকে সুপুরুষ করে গড়ে তোলে। দ্বীন তাকে শেখায় পবিত্রতা; তা যতটা দেহের ঠিক ততটাই অন্তরেরও। রাগ নিয়ন্ত্রণ, সবর ও নম্রতা, অন্তরের কুপ্রবৃত্তির সাথে আমরণ লড়ে যাওয়া; এসবই উত্তম পুরুষদের জীবনের মূল্যবান সবক। সমাজের পিঠে অশ্লীলতার কশাঘাত; ফলে যিনা-ব্যভিচার এখন সহজ, বিয়ে হয়ে গিয়েছে কঠিন। সাধারণ ঘরের মুসলিম পুরুষদের মাঝে অনেকেই একটা সময় জাহিলিয়াতের ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় অনেকেই ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসে। কিন্তু আগের ভুতুড়ে সেসব স্মৃতি প্রতিনিয়ত হাতছানি দেয়। মাঝে মাঝে বীরেরা হেরে যায় অন্তরের সাথে এক ঠান্ডা যুদ্ধে। রাজ্যের বিষাদ গ্রাস করে তাকে। বিয়েই যেন সমাধান। কিন্তু বিয়ের পর যে এক নতুন জীবনের সাথে সাথে শুরুর হয় নতুন অজানা এক দায়িত্ব, সেটাও তো মাথায় রাখা উচিত। আল্লাহ সুবহানা ওয়া তা’আলা অনুগ্রহশীল, তাই তিনি ভালোবাসেন তাদেরকে যারা অন্যের ওপর এবং নিজের ওপর অনুগ্রহ করে। তারাই তো ‘মুহসিনীন’, বিভ্রাটের দুনিয়ায় উত্তমদের অন্তর্গত। পুরুষোত্তম (ইসলামের আলোকে মুসলিম পুরুষের বৈশিষ্ট্য): অমরা রুটিন কেন করি? রুটিনে যে টাস্কগুলো করব বলে আমরা ঠিক করি, সেগুলো তো আমরা জানিই! কখন খাব, কী খাব, কখন ঘুমাব, কখন কতক্ষণ পড়াশোনা করব, কী পড়ব, কখন জিম করব—এসবই তো! তাহলে সেই জানা টাস্কগুলো নিয়েই রুটিন করা কেন? কারণ, রুটিন আমাদেরকে একটা লক্ষ্য ঠিক করে দেয়—আমাদেরকে একটা উদ্দেশ্য দেয়। আর একটি কাঙ্ক্ষিত সময় পর্যন্ত এই রুটিনমাফিক চলার পুরস্কার হিসেবে আমরা একটা কিছু অর্জন করি। পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট, ওজন কমানো, সিক্স প্যাক বড়ি- এসব হলো রুটিনমাফিক জীবন যাপনের শেষে আমাদের প্রাপ্তি।