| লেখক | ফাহিম বিন আহমাদ |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | সাহিত্য ও উপন্যাস |
| Language | : বাংলা |
| Number of Pages | 144 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
গ্রামের নাম নারায়নখোলা। প্রতি শুক্রবার গ্রামে পঞ্চায়েত বসে। বিচারসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে গ্রাম্য সংস্কৃতির আদলে বিভিন্ন আনন্দোৎসব পালিত হয়। বংশ পরম্পরায় গ্রামের পঞ্চায়েতপ্রধান হলেন লতিফ সরকার। গ্রামের মানুষ হিন্দু ধর্ম থেকে মুসলমান হয়েছে অনেক বছর আগে। পঞ্চায়েতপ্রধান লতিফ সরকারের আদি পুরুষ বুদ্ধদেব সরকার। তার দ্বিতীয় ছেলে রাজেশ সরকার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম রাখেন সাইয়েদ হোসন সরকার। কথিত আছে, কোনো এক তসবি পীরের ভক্ত হয়ে মুসলমান হোন তিনি। এ পীর তার উপাধি দেন সাইয়েদ। হোসন সরকার মুসলমান হলেও ধর্মীয় শিক্ষা পাননি। তাই তিনি পূর্বের সনাতনী সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। তিনি ঢাক-ঢোল বাজাতেন। কোমর দোলানো সুন্দরী বাইজী এনে নাচাতেন। দীর্ঘকাল থেকেই যাত্রাপালার অশ্লীলতা আর গ্রাম্য মেলায় বেশ্যা ও নগর নটীদের কর্মকাণ্ডে বুঁদ হয়ে থাকত নেতৃস্থানীয় গণ্যমান্যরা। সমাজে বেশ্যাদের বেহায়াপনা এবং ব্যাভিচারের আধিক্যতায় জন্মলাভ করত জারজ সন্তান। সমাজে প্রচলিত ছিল, জারজ সন্তান অশুভ। জারজ সন্তান গ্রামে থাকলে আল্লাহর শাস্তি নেমে আসবে তাদের উপর, গ্রাম ধ্বংস হবে। তখন পঞ্চায়েত সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন, গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া চকরবিলের পানিতে সকলের উপস্থিতিতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে জারজ সন্তানকে। তারপর থেকে একে একে এভাবেই হত্যা করা হতে থাকে জারজ সন্তানদের এবং গ্রামকে পরিপূর্ণভাবে পরিশুদ্ধ রাখা হয়। কিন্তু গ্রামের মানুষ মুসলমান হওয়ার পর সংস্কারের ডাক আসে। বর্তমান পঞ্চায়েতপ্রধান মাতবর লতিফ অশ্লীলতা দূর করে ধর্মীয় সংস্কৃতির সংগ্রাম শুরু করেন। গ্রামে নিষিদ্ধ হয় সকল অশ্লীলতা। একদিন আচমকা গ্রামের বিলে ভেসে আসে নিহত মানব সন্তান। ভ্রুণ এবং নবজাতক হত্যায় প্রমাণাদি গ্রামে আসতে থাকে। তারপর গ্রামের মানুষদের মনে পুরনো সেই ভীতির সঞ্চার হয়। বর্তমান প্রজন্ম অস্থির হয়ে কাঁপতে থাকে এই ঘটনায়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সূত্র ধরে সামনে এগোতে থাকে পঞ্চায়েতের গল্প। ধর্মীয়, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং রোমাঞ্চকর থ্রিল-রহস্য নিয়েই পঞ্চায়েত উপন্যাসের উপাখ্যান।