| লেখক | সালমা কিবরিয়া |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | শিশু কিশোরদের বই |
| Language | : বাংলা |
| Number of Pages | 16 |
| Cover Type | পেপার ব্যাক |
চাষীর তিনকন্যা ও ভালুক বন্ধু অনেক দিন আগের কথা। কুসুমপুর গ্রামে এক চাষী বাস করতো। চাষীর ছিলো তিনটি মেয়ে- আলাপী, চামেলী ও গোলাপী। তিনজনই বেশ বুদ্ধিমতী, গুণবতী ও সুন্দরী। সেই গ্রামের পাশেই ছিলো এক গভীর বন। এই বনে পেয়ারা, আমলকি, কমলাসহ নানারকম ফলের গাছ ছিলো। চাষী প্রায়ই তার মেয়েদের জন্য এ বন থেকে ফল নিয়ে যেতো। একদিন ফল পাড়তে গিয়ে চাষীর সাথে এক ভালুকের দেখা হলো। চাষী ভালুকটিকে দেখে ভয় পেয়ে গেলো। কিন্তু এ কি! ভালুকটি মানুষের স্বরে কথা বলে উঠলো। সে বলল, ভাই চাষী তুমি আমাকে ভয় পেও না, কারণ আমি তোমার মতই একজন মানুষ। দুষ্টু ডাইনির অভিশাপে ভালুক হয়ে গেছি। ভালুক আরো বলল, ডাইনি বলেছে যদি কোন মানুষ আমার সাথে বন্ধুত্ব করে তাহলেই আমি আবার মানুষ হতে পারবো। ভালুকরূপী মানুষটির এই দুখের কাহিনি শুনে চাষীর ভীষণ মায়া হলো এবং সে বলল, ঠিক আছে ভালুক ভায়া, আমি তোমার সাথে বন্ধুত্ব করব। এরপর থেকে সেই ভালুকটির সাথে চাষীর রোজ দেখা হতো এবং ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে একটি নিবিড় বন্ধুত্ব তৈরি হলো। চাষী তার ভালুক বন্ধুর কাছে নিজের মেয়েদের গল্প করতো এবং মাঝে মাঝে মেয়েদের রান্না করা খাবার এনে তার ভালুক বন্ধুটিকে খাওয়াত। আর এ কারণে চাষীর অনেক সময় বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে যেত। এর ফলে চাষীর মেয়েরা তাকে বলতো, বাবা আপনি এত দেরি করে বাড়ি ফিরলেন কেন? তখন চাষী মৃদু হেসে বলতো, বনের ধারে আমার এক বন্ধু থাকে, তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। এভাবে ভালুক বন্ধু আর তিন মেয়ে এই নিয়ে চাষীর দিন বেশ ভালই কাটছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন ঝড়ের বিকেলে বনের গাছের বড় ডাল ভেঙ্গে মাথায় পড়ে চাষীর মৃত্যু হলো।