| লেখক | নাজিম উদ দৌলা, পলাশ পুরকায়স্থ |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | রহস্য , গোয়েন্দা , ভৌতিক , থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চার |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
পুরনো গোরস্থানের পিছনে ছয় বছর পর মামার বাড়ি নীলাচলে বেড়াতে এসেছে রাতুল ও তার মা অনিমা মির্জা। তারা এখানে আসার পরপরই ঘটতে শুরু করে রহস্যময় সব ঘটনা। রাতুলের বড় মামাসহ বাড়ির সবাই রাতুলকে নিষেধ করে পুরোনো কবরস্থানের পেছনে যেতে। ওখানে আছে এক পোড়োবাড়ি, যা একসময় বড় মামাদেরই ছিল। এখন ওটা ভুড়ুতে বাড়ি হিসেবে পরিচিত। প্রতি অমাবস্যার রাতে সেই বাড়ি থেকে ভেসে আসে বিজাতীয় কোনো পশুর হাড় হিম করা চিৎকার। এদিকে পুরোনো গোরস্থানটা কেন পুরোনো, সেটাও এক রহস্য। মনা নামে এক পাগল নাকি ওই গোরস্থানের গোর খুঁড়ে লাশের মাংস খেত। এক রাতে সে পাকড়াও হয় গোরখোদকের হাতে আর গণপিটুনিতে মারা যায় সে। এর দুদিন পরই গোরখোদকের ঘাড় মটকানো লাশ মেলে গোরস্থানের পেছনে। এর পর থেকে ওই গোরস্থানের আশপাশেও আর ভেড়ে না এলাকার মানুষজন। সবকিছু বড্ড বিভীষিকাময় মনে হয় রাতুলের কাছে। মামাতো ভাই শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে তদন্তে নামে সে। আর তখনই নীলাচলের বিভিন্ন বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যেতে শুরু করে একের পর এক সাত-আট বছর বয়সী বাচ্চারা। তদন্তে নেমে রাতুল হাড়ে হাড়ে টের পায়, গোয়েন্দা হয়ে ওঠা এতটা সহজ কাজ নয়! মাথার ওপর ফণা তোলে বিষধর গোক্ষুর সাপ। চোখেমুখে অন্ধকার দেখে রাতুল। এ যাত্রায় জীবন নিয়ে আদৌ বেঁচে ফেরা হবে কি তার? ১৩ নম্বর ভূতের গলি বাড়ি নম্বর ১৩, ভূতের গলি। অর্থাৎ ‘১৩ নম্বর ভূতের গলি’। বাবা আলিমুজ্জামানের বন্ধু নুরুল হকের অনুরোধে পরিবারের সাথে তাদের মফস্বল শহর থেকে কদিনের জন্য এখানে বেড়াতে এসেছে টুবুন। আলিমুজ্জামানের সঙ্গে আছেন তার স্ত্রী, মানে টুবুনের মা সাহানা বেগম। বাড়িতে পা রেখে কেন যেন ভালো লাগল না টুবুনের। এদিকে বন্ধুর পরিবারকে বাড়িতে রেখে বিজনেস ট্যুরে বিদেশে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন নুরুল হক। কেন? কদিন পরই বাড়িটাকে কেন্দ্র করে ঘটতে শুরু করে একের পর এক ভুতুড়ে কাণ্ড। নুরুল হকের বাড়ির পেছনের বাগানে কুচকুচে কালো মুণ্ডুহীন একটা বিড়াল আবিষ্কার করে টুবুন। ওই বাগানেই কে যেন গা শিউরে ওঠা পৈশাচিক হাসি হেসে ওঠে! এদিকে রাতের অন্ধকারে কেউ একজন যেন হেঁটে বেড়ায় বাড়িতে। এক গভীর রাতে রোমহর্ষ একটা দৃশ্য দেখে কলজে কেঁপে ওঠে টুবুনের। একটা আবছা অবয়ব, দূর থেকে দেখে এক শ বছরের কোনো বৃদ্ধা বলে মনে হয় তাকে…আসলে কী ওটা? টুবুন দেখে, ওদের ডাইনিং টেবিলে উঠে আরাম করে কড়মড় শব্দে একটা কালো বিড়ালের মাথা চিবিয়ে খাচ্ছে বুড়ি! আসলে কী গভীর নারকীয় কাণ্ড ঘটতে চলেছে ওই ১৩ নম্বর ভূতের গলিতে? প্রিয় কিশোর বন্ধুরা, জানতে হলে টুবুনের সঙ্গে বুকে সাহস নিয়ে ঢুঁ দিতে হবে ১৩ নম্বর ভূতের গলিতে! সাহস আছে তো তোমাদের? জ্বীন-বাড়ির রহস্য জিয়াউল কবীর সাহেবের দাদা মারা যান যখন তখন নাকি তার বুকে ফুঁটে উঠেছিলো কালো পাঁচ আঙুলের দাগ! বৃষ্টির সময় উনার চাচা মারা যান আম গাছের ডাল ভেঙে উপরে পড়ে৷ অথচ সেই সময়ে তার সেখানে থাকারই কথা ছিল না! দীর্ঘদিন পর জিয়াঊল সাহেব ফিরে এলেন বন্ধ বাড়িতে৷ ততদিনে বাড়িটার নাম হয়ে গেছে জ্বীন-বাড়ি৷ আর ঘটতে কী সেই বাড়ি এবং এলাকার রহস্য? জিয়াউল সাহেব ফিরে আসবার পরে আরও সব রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করলো৷ এই নিয়েই গল্প৷ দ্য ডার্ক নাইট জন্মের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক সুনিবিড়। যেদিন মাতৃগর্ভে জন্ম হয় আপনার, সেদিন থেকেই সুনিশ্চিত হয়ে যায় মৃত্যু। এ এক চিরন্তন সত্য। কেবল কখন, কোথায়, কীভাবে হবে সেই মৃত্যু, তা কেউ জানে না। যেমন জানে না এই আধিভৌতিক কাহিনির কোনও চরিত্র। আবার এটাও সত্য, মৃত্যু যখন ভীষণ নির্মম হয়ে ওঠে, তার বর্ণনা হয় এমন: “ছিঁড়ে নেয়া গলা দিয়ে এখনও একটু একটু রক্ত বের হচ্ছে, দেহের সর্বত্র রক্তাক্ত আঁচড়ের চিহ্ন, বুকের দু’পাশের রিব ভেঙে দেবে গেছে, পুরষাঙ্গ আর অণ্ডকোষ ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে, গোটা পেট ফাঁড়া, নাড়িভুঁড়ির পুরোটা রাস্তায় লুটাচ্ছে…” তখন নিশ্চয় নড়েচড়ে বসবেন আপনি, ভাববেন, এ কেমন মৃত্যু! প্রিয় পাঠক, দ্য ডার্ক নাইটের নারকীয় জগতে স্বাগতম! চম্পা হাউজ মনে আছে সেই বাড়িটির কথা? যে বাড়িতে দিনের বেলাও জমে থাকে রাতের অন্ধকার? ওমা! এত জলদি ভুলে গেলেন? গত মাঘ মাসেই তো আপনি গেলেন সেই বাড়িতে। জনশূন্য সেই বাড়ির চিলেকোঠায় ঢুকতেই অদ্ভুত এক ঘোরলাগা অনুভূতি সৃষ্টি হলো আপনার। বসে পড়লেন দেয়াল ঘেঁষে। একটা গা-ঘিনঘিনে বমি বমি ভাব হলো। প্রকাণ্ড স্থবিরতা গ্রাস করলো। আপনার মনে হচ্ছিলো- সারা পৃথিবীটা হয় ঘুমাচ্ছে,না হয় মরে গেছে। আপনি আর বসে থাকতে পারছিলেন না। শরীরে জোর ছিলো না। আস্তে করে শুয়ে পড়লেন মেঝেতে। চোখ বন্ধ করলেন। তারপর কী হলো মনে আছে? গলার কাছে একটু উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন আপনি। চোখ মেলে তাকাতেই হৃদপিণ্ড ঠান্ডা হয়ে এল ভয়ে। একটা বিরাট জন্তু ঝুঁকে এসে আপনার গলা চাটছে! আপনি ভয়ে আর নড়তে পারলেন না। চোখের পাতার ফাঁক দিয়ে দেখলেন এক দৈত্যাকার নেকড়ের জ্বল জ্বল করতে থাকা দুটো চোখ। খুলে রাখা মুখের মধ্যে চকচক করছে ধারালো সাদা দাঁত। গরম জান্তব ক্ষুরধার নিঃশ্বাস এসে পড়ছে আপনার উপর… আচ্ছা,কী হয়েছিলো তারপর? বাকি গল্পটা বলুন না,প্লিজ!