| লেখক | আল্লামা ইবনুল জাওযী (রহঃ) |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
মনের ওপর লাগাম বিবেক আছে বলেই মানুষ পশুপাখি থেকে আলাদা। বিবেকের কাজ খায়েশের পিছু পিছু যাওয়া থেকে বারণ করা। আপনি যদি বিবেককে পায়ে ঠেলে খায়েশের গোলামি করেন, আপনি তখন জন্তু-জানোয়ারের চেয়েও নিকৃষ্ট হবেন। শিকারি কুকুর আর রাস্তাঘাটে ঘোরাঘুরি করা কুকুর দেখলেই বিষয়টা বুঝবেন। শিকারি কুকুরের আলাদা সম্মান আছে। দাম আছে। কারণ, ইচ্ছার ওপর লাগাম টানার ক্ষমতা আছে তার। শাস্তির ভয়ে কিংবা মনিবের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তারা মনিবের শিকার নিজের কাছে নিরাপদে রাখে। নাবিকহীন জাহাজ যেমন স্রোতের টানে উদ্দেশ্যহীন ভেসে যায়, খায়েশ ঠিক সেরকম মানুষের স্বভাবকে ইচ্ছেমতো নাচায়। সমঝদার মানুষ হিসেবে বলুন তো: খায়েশের লেজ ধরে একবার চলা শুরু করলে, ভবিষ্যতে এর যে খারাপ পরিণাম হবে সেটা সহ্য করা সহজ, নাকি শুরুতেই খায়েশ চেপে ধরার কষ্ট সহ্য করা সহজ? খায়েশের অনুসরণের সবচেয়ে করুণ পরিণাম হচ্ছে মানুষ সেই খারাপ কাজটা করতে একসময় আর কোনো মজা পায় না। কিন্তু অভ্যাসবশত করে যায়। নিজেকে সেখান থেকে উদ্ধার করতে পারে না। এ ধরনের খারাপ কিছুতে অভ্যস্ত হলে তা আসক্তিতে রূপ নেয়। মদপান কিংবা অবাধ যৌনসম্পর্কে যারা আসক্ত তাদের অবস্থা এমনই। খায়েশের মুখে লাগাম আঁটবেন কীভাবে? . মনের লিমিটলেস খায়েশের উপর লাগাম আঁটার নানান কলাকুশল নিয়ে প্রত্যেক যুগেই বিজ্ঞ আলিমরা তাদের জাতিকে ওয়াজ নসিহত করে গিয়েছেন। এমনি এক আলিম, ইমাম ইবনুল জাওযী রহ., যিনি তাঁর যুগের মানুষদের উদ্দেশ্যে ওয়াজ নসিহত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রচনা করেছেন অসংখ্য কিতাব। তাঁর সেই অসংখ্য রচনার ভিতর একটি বিখ্যাত কিতাব হচ্ছে ‘আত-তিব্বুর রুহানী’, বাংলায় যা রূপ নিয়েছে ‘মনের ওপর লাগাম’। বইয়ের ৩০টি অধ্যায়জুড়ে এসব অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে। মাদারিজুস সালিকীন (আল্লাহর পানে যাত্রা) ইমাম ইবনুল-কাইয়্যিম (রহ.)। মহান এই ইমামকে নতুন করে পরিচয় করে দেবার কিছু নেই। তিনি নিজেই বিশাল এক মহীরুহ। যার প্রতিটি ডালপালা আকায়িদ, তাফসীর, ফিকহ, আখলাক ইত্যাদি শাস্ত্র-গুণে গুণান্বিত। মূলত আত্মশুদ্ধি জগতে যেসকল সালাফ ও খালাফের খেদমত অনস্বীকার্য, তাদের ভিতর তিনি অন্যতম। কুরআন-সুন্নাহকে শতভাগ প্রাধান্য দিয়ে যে দর্শন জ্ঞান রেখে গেছেন, তা অনবদ্য। . তাঁর বিখ্যাত ‘মাদারিজুস সালিকীন’ গ্রন্থের নাম শোনে নি, ইসলামি অঙ্গনে এমন পাঠক মেলা ভার। বরং বছরের পর বছর ধরে আমরা অনেকেই অপেক্ষার প্রহর গুনছি, এই মহান গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ কবে প্রকাশিত হবে। মাদারিজুস সালিকীন গ্রন্থটি মূলত একটি আয়াতের ওপর রচিত। সূরা ফাতিহার আয়াত ৫ নং আয়াত। মুমিনের আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে যে সকল গুণ অর্জন আবশ্যক, সেগুলো নিয়ে সবিস্তার আলোচনা করেছেন এই আয়াতের আলোকে। তাকওয়া, ইখলাস, আশা, সবর, তাওয়াক্কুল, ভালোবাসা, মোট কথা অন্তরের যাবতীয় আমল এতে একীভূত করা হয়েছে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায়। গ্রন্থটির বিভিন্ন আলোচনা এত গভীর, এত তাৎপর্যপূর্ণ যে, একটি প্যারাগ্রাফ অবলম্বন করে পূর্ণ একটি প্রবন্ধ রচনা করা সম্ভব, সম্ভব ঘন্টাখানেক বক্তৃতা করাও। . মাদারিজুস সালিকীনের মতো দার্শনিক কিতাব সহজবোধ্য সাবলীল গদ্যে অনুবাদ করা দুরূহ। বিশেষ করে এর ভাষাশৈলী এত উন্নত যে, আরব পাঠকরাও সম্পূর্ণ আত্মস্থ করতে হিমসিম খান। আলহামদুলিল্লাহ, হাজার পৃষ্ঠার মাদারিজুস সালিকীন বইটির সংক্ষিপ্তসার নিয়ে এসেছে ওয়াফি পাবলিকেশন। সংক্ষিপ্ত হলেও প্রতিটি অধ্যায়ের শিক্ষা এতে উঠে এসেছে ইবনুল কাইয়্যিমের ভাষায়।