| লেখক | আরিফ আজাদ, এনামুল হক ইবনে ইউসুফ |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | পেপার ব্যাক |
আজি হতে হাজার বছর আগে গল্পটা হাজার বছর আগের কোনো এক সন্ধ্যার। পৃথিবীতে ঝেঁকে অন্ধকার নেমে এলে, কেউ যেন পরম মমতায় জ্বালিয়ে দিলো ঘরের কুপিবাতিটি। সেই সন্ধ্যায় শুধু ঘরের কোণের কুপিবাতিই জ্বলল না, এক চপল কিশোরের মনের কোণেও টিমটিম করে জ্বলে উঠেছিল একটুকরো জিজ্ঞাসা। সেই জিজ্ঞাসার উত্তর পেতে সেই চপল কিশোরকে হাঁটতে হয়েছিল যুগের পর যুগ। দিন-রাত একাকার করে, পথের পর পথ, প্রান্তরের পর প্রান্তর তাকে পাড়ি দিতে হয়েছিল একাকী। শরীরে নেমেছিল অবসাদ, গা জুড়ে নেমেছিল পথের ক্লান্তি। কিন্তু সেই একটুকরো জিজ্ঞাসার অবদমিত আহ্বান তাকে কোথাও থামতে দিলো না। ধু-ধু মরুভূমির পথ, ধুলোয় আচ্ছন্ন শহর, কখনো-বা নিষ্প্রভ নক্ষত্রের মিটিমিটি আলোতে খুঁজে বেড়াতে হয়েছিল সেই জিজ্ঞাসার সন্ধান। কালের ধুলো অতিক্রম হয়, বয়েসি বটের শেকড়ে নেমে আসে জীর্ণতার চিহ্ন। কিন্তু সেই পথিকের পথ যেন ফুরোতে চাইল না আর। তারপর, শতাব্দী পার হলো। দুনিয়া থেকে হারিয়ে গেল সভ্যতার পর সভ্যতা, শহরের পর শহর। কোনো কোনো দিকে গড়ে উঠল নতুন নগর, নতুন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু পৃথিবীরই এক প্রান্তরে, জীর্ণ শরীর নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল এক শতাব্দী প্রাচীন পথিক—এক পরমের সন্ধানে। এই উপাখ্যান সেই পথিকের জীবনকে ঘিরে। শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসার সেই উত্তর কি মিলেছিল? পথিক কি পৌঁছাতে পেরেছিল তার আরাধ্য জীবনের সমাপ্তিতে? টান টান উত্তেজনার এই ঐতিহাসিক উপাখ্যানে পাঠক নিজেই খুঁজে নিক সেই উত্তর… দেয়ালের ওপারে আকাশ আমরা সবাই এক একটা চলমান রহস্য। আমাদের প্রত্যেকের বুকের গহীনে আছে দিগন্ত বিস্তৃত এক নীল আকাশ, অথচ অদ্ভুত এক মায়ার টানে আমরা নিজেরাই নিজেদের চারপাশে তুলে রাখি অভেদ্য দেয়াল। কখনো সেই দেয়াল লোকলজ্জার, কখনো মিথ্যে অহমিকার, আবার কখনো তা শুধুই এক যান্ত্রিক জীবনের জঞ্জাল। ‘দেয়ালের ওপারে আকাশ’ নিছক কোনো গল্পের সংকলন নয়; এটি আমাদের যাপিত জীবনের সেই সব অলিখিত দীর্ঘশ্বাসের এক জীবন্ত দলিল, যা আমরা সযত্নে এড়িয়ে চলি। এনামুল হক ইবনে ইউসুফ তার নিপুণ লেখনীতে ব্যবচ্ছেদ করেছেন মানুষের মনের সেই সব অন্ধকার অলিন্দ, যেখানে সচরাচর আলোর রেখা পৌঁছায় না। তিনি দেখিয়েছেন, শহরের আকাশচুম্বী অট্টালিকায় বাস করা মানুষটি কতটা নিঃস্ব হতে পারে, আবার পথের ধুলোয় মিশে থাকা অতি সাধারণ প্রাণের ভেতরেও থাকতে পারে প্রশান্তির এক বিশাল সমুদ্র। সিন্দাবাদের মতো সাফল্য আর বৈভবের সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়েও জীবনের শেষ বেলায় যখন মানুষটি আবিষ্কার করেন—তার নোঙর ফেলার মতো কোনো আপন বন্দর অবশিষ্ট নেই, এমনকি নিজের সন্তানের হৃদয়েও না—তখন সেই শূন্যতাই হয়ে ওঠে বইটির মূল সুর। ১৯শে জুলাইয়ের পিচঢালা রাজপথ থেকে শুরু করে ট্রেনের কামরায় মৃত্যু ও জীবনের কাল্পনিক কথোপকথন—সবই যেন এক অনিবার্য সত্যের দিকে আমাদের ইশারা করে। বইটি আপনাকে বাধ্য করবে নিজের দিকে ফিরে তাকাতে। মনে করিয়ে দেবে যে, এই পার্থিব দেয়ালের ওপারেই আছে এক অবিনশ্বর আকাশ। আপনি কি তৈরি সেই দেয়াল পেরিয়ে নিজের ভেতরের মুক্ত আকাশকে খুঁজে নিতে?