| লেখক | হামিম কামাল |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | গল্প-স্টোরি |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 134 |
| Cover Type | Unknown Cover |
কাছেই এক শহরে, সমুদ্র নামে একজন মানুষ হঠাৎ দুজন হয়ে গেল। ব্যাপারটা বোধহয় সংক্রামক। শহরেরই পশ্চিম কোণে জানকী নদীর ধারে কোথাও, মানব প্রজাতিকে ধ্বংস করে নতুন প্রজাতি আনার উদ্যোগ নিচ্ছে প্রকৃতি স্বয়ং। আলো নামে একটি মেয়ে ও ইউসুফ নামে একটি শিশু ছাড়া এ কথা কারো জানার সুযোগ হয়নি। চোখ রাখি দক্ষিণে। সেইন্ট সামান্থা হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নীলিমা, মহামারীর মুখোমুখি হওয়ার পর দৈবে এক বর পেয়ে গেলেন। তবে রহস্যমিতা এ ভুবনে কোনটি বর আর কোনটি শাপ, সেটি নির্ধারণের আমরা কেউ নই। শহর থেকে দূরে কোনো গাঁয়ে আমাদের নাড়ি প্রোথিত থাকে। আমাদের মাধ্যমে সেই গাঁয়েও শহরের অংশ থাকে বলে, গাঁয়ের গল্পগুলোয় শহর কখনও, ঘুরপথে হলেও, প্রাসঙ্গিক। শহরকে বুঝতে হলে যেতে হবে পূর্বপ্রান্তে। সেমন্তিনী নদীর ধারের সেই সাধু বোধকরি ঈশ্বরমার্গে পৌঁছে গেছেন। কী হয়, মানুষ যখন ঈশ্বরমার্গে পৌঁছায়? নিঝুম মেয়েটির কথাও হারিয়ে না যাক। হাসপাতালের দেয়ালে ঝোলানো একটি তৈলচিত্র তার সঙ্গে সাথে কথা বলে, স্বপ্নে ধরা দেয়। বার্তাকক্ষে রাতের শিফট শেষে স্ত্রী নাজাতের কাছে ভোরে ফিরে যায় মানিক, বিধ্বস্ত এলোমেলো। স্ত্রীকে শোনায় এমন এক রাতের স্মৃতি, যে রাত সব রাতে ধরা দেয় না। বড় শহরের ক্ষ্যাপা বুড়োরা, যারা গত শতাব্দীর আদর্শ সময়-সারথী, সারথিনী, তারাই কিন্তু রক্ষক। আজকাল মোক্ষম সময়ে তাদের কর্মক্ষম দেখা না গেলেও, শহর যেহেতু রক্ষা পাচ্ছে, বুঝতে হয়, কোথাও তারা ঠিকই কাজ করছে। সলিলের মৃত্যুর ফ্ল্যাভীয় কারণ যখন শেকল ধরে ঈগল ডেকে আনল শহরে, তখন বোধহয় সত্যের একটা হারমোনিকা প্রকাশ পেল। শহর, দেখতে ‘শহর’ হলেও, আপন সত্তার কাছে শহর কি শহুরে? জানে কি ত্রিস্তান? জেনেও না জানার ভান? নাকি না জেনেও, জানার অভিমান।