| লেখক | ড. আনিসুর রহমান ফারুক |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | সাহিত্য ও উপন্যাস |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 320 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
“তুমি খুঁজো যারে, সেও খুঁজিছে তোমারে” একটি আত্মিক উপন্যাস—যেখানে ইতিহাস, কল্পনা এবং আত্মদর্শনের সীমান্তরেখা বিলীন হয়ে গেছে। এই উপন্যাসে মাওলানা রুমি কেবল একজন চরিত্র নন—তিনি লেখকের ভেতরের প্রশ্নসঙ্গী, আত্মার আলো, এক নীরব পথপ্রদর্শক। তাঁর সঙ্গে কখনো স্বপ্নময় সংলাপে, কখনো নিজের ভেতরের রুমির সঙ্গে নিঃশব্দ কথোপকথনে, লেখক প্রবেশ করেন এক ব্যতিক্রমধর্মী অন্বেষণে—কোরআনের আলোয় নবিজিকে (সা.) নতুন করে জানার এক সাহসী প্রয়াসে। এখানে প্রশ্ন আছে, সংশয় আছে, আছে হৃদয়ের ব্যথা ও বোধের দীপ্তি। কোনটি অনুসরণযোগ্য—নবিজির চরিত্র, নাকি ব্যক্তিত্ব? আল্লাহ কি ভয়ের, না ভালোবাসার? ইমাম গাজ্জালির মতো আল্লাহর পথে যাত্রা কি ভয় থেকে প্রেমে উত্তরণ? না কি রুমির মতো, শুরুটাই প্রেম দিয়ে? এইসব গভীর দার্শনিক প্রশ্ন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এক ধ্যানমগ্ন আখ্যান—যেখানে কোরআনের আয়াত, সাহাবিদের আচরণ, আয়েশা (রা.)-কে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া সংকট, নবির ক্ষমাশীলতা, নীরবতা ও প্রেমের ভেতর দিয়ে গড়ে উঠেছে হৃদয়-দীপ্ত আলোচনার পথরেখা। কোরআনের ঘোষণা ও নবিজির বাস্তব জীবনবিশ্লেষণে প্রমাণ হয়, নবিজির চরিত্র শুরু থেকেই আদর্শ ও তাই অনুসরণযোগ্য। এই উপন্যাস আপনাকে ধাপে ধাপে কোরআনের আলোয় দেখাবে—কীভাবে নবুয়তের আলোয় একজন নবির ব্যক্তিত্বের গঠন, সংশোধন ও আদর্শে উত্তরণ ঘটে। এই উপন্যাস শেষে পাঠক কেবল নবিজিকেই খুঁজে পান না—তিনি খুঁজে পান নিজেকেও। আর তখনই যেন প্রাণ পায় রুমির সেই চিরন্তন পঙ্ক্তি—“তুমি খুঁজো যারে, সেও খুঁজিছে তোমারে।গ্রিক দর্শনের ডায়ালগ শৈলীতে নির্মিত এই গ্রন্থে প্রতিটি অধ্যায়ে একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে লেখকের সঙ্গে কল্পিত রুমির গভীর সংলাপ গড়ে ওঠে। এই কথোপকথন কখনো ধীরে ধীরে, কখনো আবেগে, কখনো প্রতিবাদে গড়ে তোলে ভাবনার কাঠামো। প্রতিটি অধ্যায়ের দ্বিতীয় অংশে লেখক সেই সংলাপের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে আত্মোপলব্ধির পথে হাঁটেন – দর্শনের আলোয়, বিজ্ঞানের যুক্তিতে, সাহিত্যের ব্যঞ্জনায়। এভাবে ই প্রতিটি অধ্যায় হয়ে ওঠে দ্বিস্তরীয় এক অনতরীক্ষ: প্রথম স্তরে রুমির সঙ্গ, দ্বিতীয় স্তরে আত্মার একাকী উদ্বোধন।