| লেখক | ওয়াল্টার রডনি, শশী থারুর |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 728 |
| Cover Type | হার্ড কভার |
বাংলা-ভারত-পাক লুটপাটের ইতিহাস ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ডুবল স্বাধীনতার সূর্য। এর তিন বছরের মাথায় ইউরোপের আকাশে উঠল উন্নয়নের সূর্য। শুরু হলো শিল্পবিপ্লব। এরপর রেনেসাঁস, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আর ক্রমাগত উন্নতি… বাণিজ্যের সন্ধানে যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়ানো ইউরোপ ‘কীভাবে’ আলাদিনের চেরাগ পেয়ে গিয়েছিল? ১৮শ শতকে ‘বাংলা-ভারত-পাক’ ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ। কিন্তু ব্রিটিশরা আসার পর ধীরে ধীরে তা নিম্ন আয়ের দেশ হয়ে গেল ‘কী’ করে? ধন-ধান্যে সমৃদ্ধ সোনার বাংলা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ত কালেভদ্রে একবার। কিন্তু ব্রিটিশরা আসার পর দুর্ভিক্ষ হতে থাকল প্রতি ছয় বছরে একবার। ‘কেন’? এমন অসংখ্যা ‘কী-কেন-কীভাবে’র উত্তর খুঁজে পাবেন ড. শশী থারুর রচিত এই গ্রন্থে। লুটপাটের ইতিহাস পড়ুন। সভ্যতার মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা লুটেরাদের চিনুন। ওরা আমার-আপনার রক্ত শোষণ করে গড়ে তুলেছে চোখ-ধাঁধানো ইমারত। আফ্রিকা লুটপাটের ইতিহাস ইউরোপের উন্নতি ও আফ্রিকার অবনতি কোনো আলাদা ঘটনা নয়। বরং তা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ইউরোপ সমৃদ্ধ হয়েছে আফ্রিকার সম্পদ লুট করে। তাদের উন্নতি, শিল্পায়ন এবং আধুনিকতার ভিত গড়ে দিয়েছিল আফ্রিকার প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদ। দাস ব্যবসা থেকে ঔপনিবেশিক শাসন—সবকিছুই ছিল সেই লুটপাটের অংশ। লক্ষ্য ছিল—আফ্রিকাকে নিঃশেষ করে ইউরোপে পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটানো। ঔপনিবেশিক শাসন শেষ হয়েছে। কিন্তু আফ্রিকার শরীরে আজও রয়ে গেছে সেই ক্ষতচিহ্ন। দখলদাররা শুধু লুটপাট করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা চাপিয়ে দিয়েছিল এমন-এক অর্থনৈতিক কাঠামো, যা ধ্বংস করে দিয়েছে আফ্রিকার নিজস্ব শিল্প। দুর্বল অর্থনীতি এখনো তাদেরকে বেঁধে রেখেছে বৈশ্বিক পুঁজিবাদের শৃঙ্খলে। ওয়াল্টার রডনির এই গবেষণা আমাদের সামনে তুলে ধরে সেই শোষণ ও লুটপাটের ইতিহাস। সমকালীন বিশ্বে ধনী-গরিব বৈষম্যের শিকড় কোথায়, এখান থেকে তা স্পষ্ট হবে। রডনি যে চেতনা লালন করতেন, সেটার কারণে মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই খুন হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু সেই বিপ্লবী চিন্তার বয়ান তিনি সংরক্ষণ করে গেছেন এই রচনায়। তার বইটি পড়ে অনুপ্রাণিত হয়েছে বিশ্বের অসংখ্য শিক্ষার্থী, গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট ও আন্দোলনকারী। রডনি দেখিয়েছেন, শোষণ ও লুটপাট কেবল অতীতের ইতিহাস নয়, বরং আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার অংশ। তাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শোষণের প্রক্রিয়া বোঝার এক অনন্য দলিল ধারণ করে আছে বইটি। চর্যাপদ : না বলা কিছু কথা অনেক লম্বা সময় কারও সাথে থাকলে মায়া ধরে যায়। বাংলার ইতিহাসের সাথেও আমার তেমন মায়া জন্মেছে। সেই মায়া থেকে কিছু দায়ও এসে বর্তায়। নানা কারণেই সেটা ঘোচানোর হিম্মত করিনি এতদিন। তবে কালের আবর্তে মনে হয়েছে, সেই দায় কিছুটা হলেও মেটানো দরকার। তাই বাংলার ইতিহাস নিয়ে সিরিজ আকারে কিছু বই লেখার ইরাদা করেছি। জানি না, সেই খায়েশ পূর্ণ হবে কি না! দয়াময়ের কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন সেই সুযোগ আমাকে করে দেন। এর মাধ্যমে পাঠককে ভিন্ন কিছুর স্বাদ দিতে পারব বলে আশা করছি।