| লেখক | কাজী নজরুল ইসলাম |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | সাহিত্য ও উপন্যাস |
| Language | : বাংলা |
| Number of Pages | 320 |
| Cover Type | Unknown Cover |
১৯২০ সালের মার্চে ভাঙল ৪৯ বাঙালি পল্টন। ঘরমুখো হলেন উচ্ছ্বসিত এক তরুণ, সঙ্গে উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি। কাজী নজরুল ইসলাম। এলেন, লিখলেন, জয় করলেন। বাংলার সাহিত্যাকাশে উদ্ভাসিত হলেন সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও শক্তিতে। ভবিষ্যতের বাঙালির জন্য তিনি উচ্চকণ্ঠে উদাত্তস্বরে দ্রোহের বিপ্লবের সংগ্রামের বাণী অবিরাম উচ্চারণ করেছেন। নজরুল যেন জানতেন, যুগে যুগে অমোঘ কালবেলায় রুদ্রের আবাহনে বাঙালিমাত্রে শরণ নেবে তাঁর। ‘বাঁধনহারা’, ‘মৃত্যুক্ষুধা’ আর ‘কুহেলিকা’-তিন উপন্যাসেই রণক্লান্ত বিদ্রোহীর সৃজনশক্তির অসীমত্বের সন্ধান মেলে। নজরুল বজ্র-বিদ্যুতে ঝড় তুলেছেন বাঙালির মনে-প্রাণে, চির তারুণ্যের-যৌবনের। উদ্দাম, উচ্চকণ্ঠ, কোলাহলময় ভাষায়। প্রবল প্রসন্ন প্রাণের পরিপূর্ণ প্রতীক হয়ে। তাঁর দুর্বার প্রাণশক্তি ভাষায় এনেছে তীক্ষ্ণতা, ছন্দে এনেছে জীবনস্পন্দন, ভাবে এনেছে বল-বীর্য ও তেজের উদ্দীপ্তি। কুড়ি বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে উপন্যাস মাত্র তিনটি। আর সেই তিনটি উপন্যাসেই তিনি অনন্য-অসামান্য। নিম্নবর্গের মানুষের জীবনসংগ্রাম উঠে এসেছে নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’য়। বঞ্চিত দলিত ও প্রান্তবাসী জনগোষ্ঠীর কথা তীব্রভাবে সঞ্চারিত করেছে তাঁর আয়ুধকে। ‘বাঁধনহারা’র বিপ্লবের আকাক্সক্ষা কিংবা ‘কুহেলিকা’র তীব্র রোমান্স- ঔপন্যাসিক নজরুলের সামর্থ্যকেই পুনঃপ্রতিভাত করে। বাংলা কথাসাহিত্যের দিগন্তে যা অতুলনীয়। ঔপনিবেশিক শাসনামলের জটিল সময়-সংক্রান্তিতে বাংলার সাহিত্য-রাজনীতিতে আবির্ভাব তাঁর অথচ স্বকালের অপরাপর সাহিত্যিকের ন্যায় তিনি নিছক অনুগামী নন। ভিন্নতার সাধনায় নজরুল অতিক্রম করেছেন দীর্ঘ-দুরূহ পথ। মহৎ স্রষ্টা-লেখক, কবি, শিল্পী বাঁচেন তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারের মধ্যে, সৃষ্টির মধ্যে। জনচিত্তে তাঁর স্থায়িত্ব নির্ণীত হয় সেই অনপনেয় চিহ্ন থেকেই। কালের সে বিচারে বাঙালির জীবনে, বিশে^র সাহিত্যাকাশে কাজী নজরুল ইসলাম অনন্য, অমোচনীয়। বাঙালি সমাজের ধর্মভেদবুদ্ধিহীন এক মিলিত, সমন্বিত সংস্কৃতির কাণ্ডারী। নজরুলের তিন উপন্যাস আজও আমাদের অবশ্যপাঠ্য।