| লেখক | মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার, হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) |
| প্রকাশনী | |
| সংস্করণ | May 22, 2026 |
| catagory | ইসলামি বই |
| Language | বাংলা |
| Number of Pages | 0 |
| Cover Type | Unknown Cover |
ইসলামি বিধানের বুদ্ধিবৃত্তিক উপস্থাপনা কুরআন-সুন্নাহ শরিয়তের বিধানসমূহ প্রমাণিত হওয়ার মূলভিত্তি হওয়ার ব্যাপারে যেমন সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই, ঠিক তেমনি শরিয়তের বিধানসমূহের মধ্যে অনেক হিকমত ও তাৎপর্য নিহিত রয়েছে—এতেও কোনো সন্দেহ নেই। উল্লেখ্য, যদিও শরয়ি বিধান যথার্থ প্রমাণিত হওয়ার জন্য এসব হিকমত ও তাৎপর্যের ওপর নির্ভরশীল নয়, তথাপি এগুলোর মধ্যে এ বৈশিষ্ট্য অবশ্যই রয়েছে। একশ্রেণির মানুষের জন্য এসকল হিকমত জানা থাকা শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে অধিক নিশ্চয়তা ও সান্তনা সৃষ্টির জন্য একটা পর্যায় পর্যন্ত বেশ সহায়ক হয়। (বর্তমানে এরূপ দুর্বল প্রকৃতির লোকের সংখ্যাই বেশি)। যদিও মজবুত ঈমানদারদের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা নেই। এ কারণেই অনেক ওলামায়ে কেরাম, যেমন : ইমাম গাজালি, আল্লামা খাত্তাবি, ইমাম ইবনে আবদুস সালাম প্রমুখ মনীষীগণের রচনাবলিতে এ ধরনের সূক্ষ্মতত্ত্ব ও নিগূঢ় রহস্য পরিলক্ষিত হয়। হাল জমানায় আমাদের সমাজে আধুনিক শিক্ষার প্রভাবে মানুষের স্বভাব-চেতনায় যে স্বাধীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাতে অনেকের মধ্যে শরিয়তের বিধানসমূহের কল্যাণ ও উপকারিতার হিকমত ও তাৎপর্য বিশ্লেষণে আগ্রহ ও প্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ আগ্রহকে দমন করে দেয়াটাই ছিল এর প্রকৃত চিকিৎসা (কারণ, অনেক ক্ষেত্রে এ আগ্রহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়)। কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্রকৃত সত্যান্বেষী ব্যতীত সাধারণ লোকজনকে এটা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হতাশ হওয়া ছাড়া কিছুই নয়। তাই সংকট মোচন ও সাধারণ মানুষের সহজসাধ্যের প্রতি লক্ষ করে কতিপয় বিজ্ঞ আলেম এ বিষয়ে বক্তৃতা ও লেখালেখির কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এ বিষয়ে কিছুকাল পূর্বে হজরত মাওলানা শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ. হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা নামক সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন। কিন্তু এর বিষয়বস্তু বেশ নিগূঢ় তত্ত্বসমৃদ্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের উপযোগী নয়। তাই সর্বসাধারণের বোধগম্য ভাষায় বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিকতার আলোকে ইসলামের বিধানাবলির তাৎপর্য নিয়েই রচিত এই বইটি। লিখেছেন বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.। সংশয়বাদ সংশয়— একটি রোগ, যা ব্যক্তির চিন্তা-ভাবনাকে বিষাক্ত করে তাকে ধর্মহীনতার ক্যান্সারের দিকে ঠেলে দেয়। সুস্থ ও আলোকিত জগত থেকে বের করে তাকে এক গহীন অন্ধকার জগতে নিয়ে যায়। আচ্ছা, আপনি কি জানেন, মরণব্যাধি এ ক্যান্সারের উপাদান কী? তা থেকে নিজেকে বাচাতে কী করতে হবে? সতর্কতা মূলক কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে? হ্যাঁ, অবশ্যই, বিবেককে ভুল ও ভ্রান্ত পথ থেকে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে? কীভাবে আপনি বিবেককে ভ্রান্ত পথ থেকে রক্ষা করবেন? কীভাবে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন? তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ভুল পথ কোনটা? কোন পথে বিভ্রান্তি আছে? আমি যেটাকে ভুল বা বিভ্রান্তপূর্ণ বলব, সেটা যে বাস্তবেই ভুল, তার প্রমাণই-বা কী? আশা করি, নিশ্চয়ই জটিলতার জায়গাটা ধরতে পেরেছেন। থানভি রহ. এ বইতে মূলত সে জটিল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তির সাহায্যে দেখিয়েছেন, বিবেকের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা কোথায়? যুক্তি ও লজিক কেন সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না? কেন আমাদেরকে যুক্তি ও বিবেকের বাইরে গিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে? এর পাশাপাশি তিনি আধুনিক শিক্ষিত শ্রেণির মধ্যে বাসা বাধা অধিক প্রচলিত সংশয়েরও সমাধান করেছেন এতে। সত্যের সংকেত আজকের পৃথিবীতে নাস্তিক্যবাদ শুধু একটি মতবাদ নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার এক সূক্ষ্ম ফাঁদ। বিজ্ঞান, দর্শন আর যুক্তির নামে সত্যকে আড়াল করা হচ্ছে, আর মিথ্যাকে দাঁড় করানো হচ্ছে প্রমাণের পোশাকে। এ অবস্থায় প্রয়োজন এমন একটি আলো, যা এই অন্ধকার ভেদ করে সত্যকে সামনে তুলে ধরবে। “সত্যের সংকেত” সেই আলোর পথেই এক ক্ষুদ্র প্রয়াস। এই বইতে নাস্তিকদের প্রচলিত যুক্তি, প্রশ্ন ও ভ্রান্ত ধারণাগুলোকে একে একে খণ্ডন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামের সত্যতা ও যুক্তি-প্রমাণকে ইসলামের শ্রেষ্ঠ আলেমদের ব্যাখ্যা, যুক্তি, প্রেক্ষাপট, ইতিহাস এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়ে এমন সব বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠককে গভীরভাবে ভাবাবে এবং অবশেষে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাবে। এই বইতে শুধু পুরনো দিনের গৎবাঁধা সেই যুক্তিখণ্ডনগুলোই না, বরং নাস্তিক ও অন্যান্য ইসলামবিরোধীরা বর্তমান সময়ে যেসব নতুন নতুন সমস্যা উত্থাপন করে থাকে সেগুলোরও উত্তর রয়েছে। যারা সত্যকে খুঁজছেন, যারা প্রশ্নের জবাব চান, যারা বিভ্রান্তির অন্ধকারে আলোর পথ দেখতে চান—এই বই তাদের জন্য। “সত্যের সংকেত” পাঠকের মনে জাগাবে আত্মবিশ্বাস, ইসলামের সৌন্দর্য দেখাবে যুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে।